উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Elections 2026) দামামা বাজার আগেই বড়সড়ো ইঙ্গিত দিলেন বারাসাতের তৃণমূল বিধায়ক (TMC MLA) চিরঞ্জিত চক্রবর্তী (Chiranjeet Chakraborty)। সাফ জানিয়ে দিলেন, আগামী নির্বাচনে তিনি আর প্রার্থী হতে আগ্রহী নন। শনিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বর্ষীয়ান এই অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বলেন, ‘১৫ বছর হয়ে গেল, সব দেওয়া সম্ভব নয়। যতটা পেরেছি দিয়েছি।’ তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যে নেত্রীর ওপরই নির্ভর করছে, তাও স্পষ্ট করেছেন চিরঞ্জিত।
২০১১ সালে তৃণমূলের টিকিটে বারাসাত থেকে জয়ী হয়েছিলেন চিরঞ্জিত। এরপর ২০১৬ এবং ২০২১ সালেও এই আসন থেকে জিতেছিলেন তিনি। রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের লড়াইয়েও কি চিরঞ্জিতকে দেখা যাবে? এপ্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে তারকা বিধায়ক বলেন, ‘আমার তিনবার বিধায়ক হয়েছি। এবার চতুর্থবার। কিন্তু এখন আমার মনে হয়, আমার যে এনার্জি আগে ছিল, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে ক্ষমতা ছিল, সেটা কমে গিয়েছে। আমি অত জোরে আর দৌড়তে পারি না এখন। সিনেমায় আর ফাইট করতে পারি না। ফলে ছবিতেও ভূমিকা পালটে যাচ্ছে। সেই পরিবর্তনটা আমি মেনে নিতে চাইছি। রাজনীতি যেহেতু খুব পরিশ্রমের জায়গা, বড় কাজের জায়গা। সেটা আমি প্রায় করতে পারি না। তাই এখানে যদি আর না থাকি, ভালো হয়।’
তবে তৃণমূল সুপ্রিমো যদি বারাসতে তাঁকেই প্রার্থী করতে চান? সেই প্রশ্নের উত্তরে চিরঞ্জিত বলেন, ‘উনি তো দূরদর্শিনী, তাঁকে কি অস্বীকার করা যায়? মনে হয় যায় না। আমি অনুরোধ করতে পারি। তবে তিনি খুব ভালো বোঝেন, কাকে প্রয়োজন, কতটুকু প্রয়োজন।’
চিরঞ্জিতের গলায় এই সুর অবশ্য নতুন নয়। ২০২১ সালের নির্বাচনের আগেও তিনি রাজনীতি থেকে অব্যাহতির ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। নিজেকে অরাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে দাবি করে তিনি বারবার বলেছেন যে, রাজনীতি তাঁর নিজস্ব ক্ষেত্র নয়। একটা সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি নির্বাচনি ময়দানে নেমেছিলেন এবং বারাসাত কেন্দ্র থেকে টানা তিনবার জয়ী হয়ে হ্যাটট্রিক করেছেন। কিন্তু এবার তিনি যে মানসিকভাবে এই গুরুভার থেকে মুক্তি চাইছেন, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট। চিরঞ্জিতের এই মন্তব্য ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
কিন্তু এখন প্রশ্ন হচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি তাঁর দীর্ঘদিনের এই সেনাপতিকে মুক্তি দেবেন? নাকি গতবারের মতো এবারও বারাসাতের ঘাসফুল শিবিরের হাল চিরঞ্জিতকেই ধরতে হবে? উত্তরের অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।

