প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাত যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর এক পরিবারের হাতে এল ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র (Citizenship via CAA)। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের লাগাতার বিরোধিতাকে উপেক্ষা করেই সিএএ-র মাধ্যমে আবেদন জানিয়েছিলেন পূর্বস্থলীর বড়গাছি গ্রামের সবুজ দাস। দীর্ঘ কয়েক বছরের উৎকণ্ঠা কাটিয়ে অবশেষে হাতে পেলেন কাঙ্ক্ষিত নাগরিকত্বের প্রমাণ (Indian Citizenship News)। আর এই ঘটনাকে হাতিয়ার করেই এখন শাসক দলকে তীব্র কটাক্ষে বিঁধছে বিজেপি।
২৬ বছরের লড়াই ও নাগরিকত্ব লাভ পূর্বস্থলীর কালেখাঁতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বড়গাছি গ্রামের বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সী সবুজ দাস। ২৬ বছর আগে বাংলাদেশের চট্টগ্রামের আদি বাড়ি ছেড়ে প্রাণভয়ে ভারতে চলে আসেন সবুজের বাবা চাঁদমনি দাস ও তাঁর পরিবার। আধারের মতো পরিচয়পত্র থাকলেও কাগজে-কলমে পাকাপোক্ত নাগরিকত্বের অভাব বোধ করছিলেন তাঁরা। সবুজ জানান, গত বছরের অক্টোবর মাসে তিনি সিএএ-তে আবেদন করেন। ৮ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে ই-মেইল মারফত তিনি জানতে পারেন যে, তাঁর নাগরিকত্ব শংসাপত্র প্রস্তুত। বর্তমানে সেই শংসাপত্রের ডিজিটাল কপি হাতে পেয়ে খুশির জোয়ার দাস পরিবারে।
রাজনৈতিক তর্জা ও তৃণমূল-বিজেপি সংঘাত সবুজের এই নাগরিকত্ব প্রাপ্তি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিজেপি নেতা দীপঙ্কর পাল ও মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্রের দাবি, তৃণমূল এতদিন সিএএ নিয়ে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে এসেছে। তাঁদের কথায়, “তৃণমূলের ‘ক্যা ক্যা ছিঃ ছিঃ’ স্লোগান যে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, এই ঘটনা তার প্রমাণ।” যদিও জেলা তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম পাল্টা দাবি করেছেন, তাঁরা সবার নাগরিকত্বের পক্ষেই, কিন্তু বিজেপি বাংলার মানুষকে নানাভাবে অবজ্ঞা ও বঞ্চনা করছে।
সবুজ দাসের এই সাফল্যে উৎসাহিত এলাকার অন্য উদ্বাস্তু পরিবারগুলিও। এসআইআর (SIR) বা সামাজিক পরিচিতি সংক্রান্ত সমীক্ষা নিয়ে যখন অনেকের মনে আতঙ্ক কাজ করছিল, তখন সিএএ-র এই সুফল নতুন দিশা দেখাচ্ছে। বড়গাছি গ্রামের মাঝের পাড়ার অনেক বাসিন্দাই এখন সবুজের মতো সিএএ পোর্টালে আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

