বিশ্বজিৎ সাহা, মাথাভাঙ্গা: একটা সময় মাথাভাঙ্গার দুর্গাপুজোর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল সুটুঙ্গা নদীতে (Sutunga River) দশমীর দিন প্রতিমা নিরঞ্জন। তা দেখতে নদীর দুই তীরে অনেক মানুষের সমাগম হত। ঢাকের তালে সানাইয়ের সুর, নৌকায় দেবীর বিদায় সব মিলিয়ে শহরবাসীর আবেগ ছিল চোখে পড়ার মত। পরিবারের সঙ্গে নৌকাবিহার, নদীতে ভেসে চলা প্রদীপ আর মাঝনদীতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এই নিরঞ্জনকে এক অসাধারণ মিলনমেলায় রূপ দিত।
কিন্তু ২০১৮ সালে প্রশাসনের তরফে নিরাপত্তা ও জলস্ফীতির কারণ দেখিয়ে নৌকায় প্রতিমা নিরঞ্জনের অনুমতি বন্ধ করে দেয়। পরিবর্তে খাদনের ঘাটে বাঁশের মাচা তৈরি করে সেখানে প্রতিমা নিরঞ্জনের ব্যবস্থা করা হয়। তখন থেকে প্রতিবছর ওই দিনে শহরজুড়ে প্রতিমা নিরঞ্জনের পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার দাবি উঠলেও প্রশাসনের অবস্থান বদলায়নি।


এবছরও বৃহস্পতিবার দশমীর দিন খাদনের ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জন অনুষ্ঠানে মেরে কেটে হাজির ছিলেন হাজার খানেক মানুষ। পুরোনো সেই বর্ণময় আয়োজনের জায়গায় বর্তমানে যেন নেমে এসেছে এক বিষন্নতা।
এদিন অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে চেয়ারম্যান (Chairman) লক্ষপতি প্রামানিক বলেন, নিরাপত্তার কারণে নৌকা করে প্রতিমা নিরঞ্জন বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে শহরবাসী যদি দাবি তোলে, আমি তাদের পাশে আছি। একই সুর প্রাক্তন বিধায়ক (MLA) বিনয়কৃষ্ণ বর্মনের (Vinay Krishna Barman) গলায়ও।
তবে চৌপথি পুজো কমিটির সভাপতি কল্যাণী পোদ্দার ক্ষোভ সঙ্গে বললেন, মাচা থেকে প্রতিমা ফেলে পরে ক্রেন দিয়ে তোলার এমন দৃশ্য মানুষজনের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দিচ্ছে।
গৌতম তালুকদার, সুশীল তালুকদার, মহম্মদ আলির মত প্রতিমা নিরঞ্জনে আসা মাথাভাঙ্গার নাগরিকদের বক্তব্য, শহরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত এই নৌকায় করে প্রতিমা নিরঞ্জন। ওই পুরোনো ঐতিহ্যে আবার ফিরিয়ে আনাটা জরুরি।

