কোচবিহার: রবিবার জেলা প্রশাসনের সিভিল ডিফেন্সের উদ্যোগে শাল বাগানে নেচার অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছিল। ভারতীয় বন আইনের আওতায় ২০২১ সালে বন দপ্তরের তরফে শাল বাগানে রান্না করা নিষিদ্ধ করা হয়। অভিযোগ, এদিন শাল বাগান চত্বরে থাকা উদ্যানের ভিতরে রান্না করা হয়। চেয়ার-টেবিল বসিয়ে খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়। যেখানে সরকারি আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
বছরখানেক আগে ২০২৪ সালের ৬ ডিসেম্বর শাল বাগানে পিকনিকের আয়োজন করে বিতর্ক জড়িয়েছিল জেলা পুলিশ। নিয়ম ভেঙে ফের সেখানে রান্না করায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বন দপ্তর স্পষ্ট জানিয়েছে, ওখানে রান্না করার কোনও নিয়ম নেই। তাহলে প্রশাসনের তরফে রান্না করা হলেও কেন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হল না? এই প্রশ্নও উঠেছে। অনেকেই বলছেন, তাহলে কি শাল বাগানে রান্না বা পিকনিক নিষিদ্ধ-র নিয়ম শুধুমাত্র সাধারণ মানুষের জন্যই? যদিও সাফাই দিয়ে সিভিল ডিফেন্সের আধিকারিক পবিত্রা লামা বলেছেন, ‘শাল বাগানে রান্না করা হয়নি। নিয়মবহির্ভূত কোনও কাজ আমরা করিনি। শাল বাগানের পাশে একটি উদ্যান রয়েছে। সেখানে রান্না করা হয়েছিল।’ ওই উদ্যানে রান্নার আয়োজনের প্রসঙ্গে বন দপ্তরের ডিএফও অসিতাভ চট্টোপাধ্যায়ের কথা, ‘ওখানে আমরা রান্না করতে দিই না। এদিন ওখানে কী ঘটনা ঘটেছে তা খোঁজ নিয়ে দেখব।’
সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে সরকারি দপ্তরের এই কাণ্ডে পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের মধ্যেও ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। এই প্রসঙ্গে স্থানীয় একটি পরিবেশপ্রেমী সংস্থার সম্পাদক অরূপ গুহ বলেন, ‘সরকারি দপ্তরই যদি সরকারের নিষেধাজ্ঞা না মানে তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছাবে। এই বিষয়ে বন দপ্তরের নজর রাখা উচিত ছিল। তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়।’ ২০২১ সালে বন দপ্তরের তরফে শাল বাগানে রান্না করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করার আগে পর্যন্ত এই স্থানে ভিড় উপচে পড়ত। নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পর শাল বাগান কার্যত শুনসান থাকে। এই বিষয়ে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক শাল বাগান সংলগ্ন এলাকার এক বাসিন্দা বললেন, ‘আগে পিকনিকের মরশুমে শাল বাগানে পর্যটকদের ভিড় উপচে পড়ত। কিন্তু পিকনিক বন্ধের পর থেকে এখানে কেউ-ই আসে না। সরকারি লোকজন যদি রান্না করতে পারে তাহলে সাধারণ মানুষের জন্যও সেই সুযোগ দেওয়া হোক। তাহলে শাল বাগান আগের মতো জমজমাট থাকবে।’ কেউ কেউ আবার কটাক্ষ করে বলেন, ‘আমরা যদি শাল বাগানের উদ্যানে রান্না করে খাওয়াদাওয়া করি তাহলে বন দপ্তর আমাদের অনুমতি দেবে তো?’
সিভিল ডিফেন্স সূত্রে খবর, এদিন তাদের কুইক রেসপন্স টিমের সদস্যদের প্রশিক্ষণের কর্মসূচি ছিল। সকালে স্বাস্থ্য দপ্তরের আয়ুষ বিভাগের তরফে ৭০ জনকে নিয়ে যোগাসনের শিবির করা হয়। এরপর মাউন্টেনিয়ার্স ক্লাবের সহযোগিতায় তাঁদের অ্যাডভেঞ্চারের নানা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের শারীরিক, মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে মিটলেও, শাল বাগানে রান্না করার অভিযোগ ওঠায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

