উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ‘১৪ বছরে রাজ্যে ২ কোটিরও বেশি কর্মসংস্থান হয়েছে। বেকারত্বের হার ৪০ শতাংশ কমিয়েছি।’ মঙ্গলবার রাজ্যে ১৪ বছরে উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড (উন্নয়নের পাঁচালি) প্রকাশ করে এমনটাই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। এই সময়ে তৃণমূল সরকার কী কী উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কাজ করেছে, তার খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি।
মমতা বলেন, ‘রাজ্যে ছ’টি অর্থনৈতিক করিডর তৈরি হচ্ছে। এখানে আরও এক লক্ষ কর্মসংস্থান হবে।’ দেউচা পাচামিতেও এক লক্ষ কর্মসংস্থান হবে বলে আশাবাদী মমতা। তিনি আরও জানান, ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পে রাজ্যে এক কোটি ৩০ লক্ষের বেশি মানুষ কাজ করছেন। ৪২ লক্ষ ছেলেমেয়েকে স্কিল ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে।
এদিন নবান্ন (Nabanna) সভাঘরে ‘উন্নয়নে পাঁচালি’ উদ্বোধন করে মমতা বলেন, ‘আগামী বছর মে মাস এলে আমাদের সরকারের ১৫ বছর পূর্ণ হবে। এই সাড়ে ১৪ বছরে আমাদের সরকার কী কী কাজ করেছে, তা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরছি। আমরা রাজ্যবাসীর কাছে দায়বদ্ধ।’ পাশাপাশি, ২০১৩ থেকে ২০২৩ সাল- ১০ বছরে তাঁর সরকার রাজ্যের কত জনকে দারিদ্রসীমার বাইরে এনেছেন তার পরিসংখ্যান তুলে ধরেন মমতা। তিনি জানান, ১০ বছরে এক কোটি ৭২ লক্ষ মানুষকে দারিদ্রসীমার বাইরে আনা হয়েছে। গোটা ভারতের মডেল এখন বাংলা, এমনই দাবি করেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘আমরা ১২ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরি করেছি, যা গোটা ভারতের মধ্যে বাংলা মডেল।’
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে বিজেপিকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, ‘অনেক রাজ্যে বিজেপি দেখানোর জন্য করছে। বিহারে ভোটের আগেও করেছে। আমরা তো প্রতি বছরই ১২ হাজার করে দিই। পাঁচ বছরে ৬০ হাজার।’ ২ কোটি ২১ লক্ষ মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও, কন্যাশ্রী পায় এক কোটি জন। রূপশ্রী প্রকল্পের অধীনে ২২.০২ লক্ষ মেয়েকে বিয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান মমতা। তিনি বলেন, ‘৩১ লক্ষ ৭৭ হাজার পরিযায়ী শ্রমিক, যাঁরা ঘরে ফিরেছেন, তাঁদের পাঁচ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের শ্রমশ্রী প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।’
তাঁর কথায় এদিন উঠে এসেছে মহাকাল মন্দির থেকে জগন্নাথ ধামের প্রসঙ্গ। দিঘায় জগন্নাথ মন্দির হয়েছে, শিলিগুড়িতে হয়েছে মহাকাল মন্দির। হরিচাঁদ ঠাকুরকে সম্মান জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়েছে। সব উদ্বাস্তু কলোনিকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে গোটা রাজ্যেই অন্যান্য তীর্থক্ষেত্রগুলির উন্নয়নের খতিয়ানও তুলে ধরতে দেখা যায় মমতাকে। কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে ফের সুর চড়াতে দেখা যায় মমতাকে। তিনি বলেন, ‘রাস্তার টাকা বন্ধ করেছে কেন্দ্র। আমরা পথশ্রী প্রকল্পে ৬০ হাজার কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করেছি। ১ লক্ষ ৩০ হাজার গ্রামীণ রাস্তা তৈরি করেছি। কিন্তু কেন্দ্রের কাছে ১ লক্ষ ৮৭ হাজার কোটি টাকা পায় রাজ্য।’

