উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বৃহস্পতিবার আইপ্যাক (I-PAC)-এর সল্টলেক সেক্টর ফাইভের দপ্তর এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি (ED raid)। খবর পেয়েই প্রথমে প্রতীকের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee) ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। এরপর সেখান থেকে বেরিয়ে চলে যান আইপ্যাকের দপ্তরে। সেখান থেকে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পর বেরিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ইডির এই হানা ‘ক্রাইম’। ভোটের স্ট্র্যাটেজি ছিনতাই করা হয়েছে।
এদিন আইপ্যাকের অফিস থেকেও ফাইলের গোছা নিয়ে বেরিয়ে আসেন পুলিশকর্মীরা। তারপরে সেখান থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি এটা একটা ক্রাইম। মার্ডার অফ ডেমোক্রেসি। আমাদের ভোটের স্ট্র্যাটেজি ছিনতাই করা হয়েছে। আমাদের কাগজ, তথ্য সব লুট করেছে। লড়াই করার সাহস হচ্ছে না, এখন লুট করতে নেমেছে। হার্ড ডিস্ক, অর্থনৈতক কাগজ, পার্টির কাগজ নিয়ে নিয়েছে। সব কাগজ ছিনিয়ে নেওয়া লুঠ করা এটা করা ঠিক হয়েছে? নতুন করে আবার ফাইল তৈরি করতে করতে তো ভোট পেরিয়ে যাবে।’ এরপরই তিনি বলেন, ‘ভোর থেকে অপারেশন চালু করেছে। সকাল ৬টার সময়ে আইপ্যাকের দপ্তরে অভিযান শুরু হয়েছে। পার্টির কাগজপত্র নিয়ে চলে গিয়েছে। টেবিলগুলো ফাঁকা পড়ে রয়েছে। আমাদের সঙ্গে চিটিং করলে, জুয়া খেললে মেনে নেব না।’
এরপরই প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে বলছি, দয়া করে আপনার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কন্ট্রোল করুন। আমাদের রাজনৈতিক সব নথি নিয়ে নিয়েছে। আমাদের অর্থনৈতিক নথি নিয়ে গিয়েছে। অমিত শা’কে চ্যালেঞ্জ করছি, আপনি বাংলায় জিততে চান তো? তাহলে আসুন, ভোটে লড়ুন। আমি যদি বিজেপির পার্টি অফিসে হানা দেওয়াই? সেটা ঠিক হবে?’ শুধু তাই নয়, আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন না আসা পর্যন্ত সল্টলেক আইপ্যাকের অফিসেই থাকছেন বলেও জানান মমতা।
এদিন, প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে বেরিয়েও অমিত শা’কে একহাত নেন মুখ্যমন্ত্রী। আইপ্যাক কর্ণধারের বাড়ি থেকে বেরোনোর পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমার দলের সমস্ত প্রার্থীর তালিকা, পার্টির প্ল্যান, স্ট্র্যাটেজি সংগ্রহ করতে ইডিকে পাঠিয়েছিল ন্যাস্টি হোম মিনিস্টার। নটি হোম মিনিস্টার। আমি প্রতীককে ফোন করেছিলাম। ও আমার দলের ইনচার্জ। হার্ড ডিস্ক, ফোন সব নিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।’

