উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: হলদিয়ার (Haldia) সভা থেকে মেদিনীপুর নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (CM Mamata Banerjee)। মঙ্গলবার হলদিয়ার নির্বাচনি সভা থেকে তিনি এক প্রকার নজিরবিহীন ঘোষণা করলেন। তৃণমূল নেত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আগামী দিনে মেদিনীপুরের দায়িত্ব সামলাবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। মমতার এই ঘোষণা মেদিনীপুরের রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন মোড় এনে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
হলদিয়ার জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আগামী দিনে মেদিনীপুরের দায়িত্ব নিয়ে অভিষেকই কাজ করবে।” এতদিন মেদিনীপুর ও হলদিয়া শিল্পাঞ্চল অধিকারী পরিবারের ‘গড়’ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর দলত্যাগের পর সেই দুর্গে ফাটল ধরাতে এবার খোদ অভিষেককে সেনাপতি হিসেবে নিয়োগ করলেন তৃণমূল নেত্রী। মমতার কথায়, “অভিষেককে রোজ গালাগালি দেয়। ওর সঙ্গে লড়াইয়ে পারো না আর আমার সঙ্গে লড়বে? আমি তো থাকবই, তবে মেদিনীপুরের দেখভাল এবার অভিষেকই করবে।”


নাম না করে শুভেন্দু অধিকারী ও তাঁর পরিবারকে তীব্র আক্রমণ শানান মমতা। অধিকারী পরিবারের আধিপত্যকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “তোমাদের এত অহঙ্কার! এক ভাই সাংসদ, তুমি বিধায়ক, অন্য ভাইও বিধায়ক। পুরো পরিবার মিলে ক্ষমতা দখল করে আছো। আর আমাদের পরিবার থেকে আমি ছাড়া নির্বাচনে আর কেউ দাঁড়ায়নি।” এই পরিবারতন্ত্রের লড়াইয়ে শুভেন্দুর পাল্টা হিসেবেই যে তিনি অভিষেককে সামনে নিয়ে এলেন, তা এদিনের বক্তৃতায় স্পষ্ট।
হলদিয়ার শিল্পাঞ্চল থেকে টাকা কোথায় যায়, সব তাঁর নখদর্পণে রয়েছে বলে দাবি করেন মমতা। পাশাপাশি, ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের গণনাকেন্দ্রগুলোতেও ‘লোডশেডিং’ করে ভোট চুরির আশঙ্কা প্রকাশ করেন নেত্রী। কর্মীদের সতর্ক করে তিনি জানান, গদ্দারদের রাজনৈতিকভাবে উৎখাত করাই এখন তৃণমূলের প্রধান লক্ষ্য। মমতার এই মেগা ঘোষণা এবং মেদিনীপুরের দায়িত্ব অভিষেকের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগামীদিনের লড়াইকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।

