উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দিল্লির নিউ বঙ্গভবন আজ হয়ে উঠেছিল প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দু। এসআইআর (SIR)-এ ‘ক্ষতিগ্রস্ত’দের নিয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে সরব হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে এসআইআর-এর নামে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে কাজ করা হচ্ছে।
‘এআই’ প্রযুক্তিতে নাম ছাঁটাই ও ভোটারদের মৃত ঘোষণা


মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ব্যবহার করে বেছে বেছে তৃণমূল প্রভাবিত এলাকার ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।” তিনি বেশ কয়েকজন ‘জীবিত’ ব্যক্তিকে সামনে এনে দেখান, যাঁদের কমিশনের খাতায় ‘মৃত’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। মমতার প্রশ্ন, “জীবিত মানুষকে মৃত সাজিয়ে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার এই অধিকার কমিশনকে কে দিল?”
অমর্ত্য সেন থেকে শুরু করে কবি জয় গোস্বামী—বাংলার বিশিষ্টজনদের যেভাবে নথির অসংগতির দোহাই দিয়ে তলব করা হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “অমর্ত্য সেনের মতো মানুষকে হেনস্তা করা হচ্ছে।”
ভবানীপুর ও অনুপ্রবেশ ইস্যু
নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরের প্রসঙ্গ টেনে মমতা জানান, সেখানে ২ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ৪০ হাজার নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, যেখানে বিজেপির শক্তি বেশি সেখানে নাম বাদ কম যাচ্ছে, কিন্তু তৃণমূলের জেতা কেন্দ্রগুলিতে ৮০ হাজার থেকে ১ লক্ষ নাম কাটার চক্রান্ত হচ্ছে। অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বিজেপিকে বিঁধে তিনি বলেন, “সীমান্ত বিএসএফ দেখে। অনুপ্রবেশ ঠেকানোর দায়িত্ব আপনাদের। অথচ আপনারা শুধু বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন আর বাংলাদেশের ছবি বাংলার বলে চালাচ্ছেন।”
বহিরাগত ভোটার ও বিভাজনের রাজনীতি
মমতার দাবি, বিজেপি (BJP) উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ থেকে ভোটার নিয়ে এসে বাংলার ভোটাধিকার নষ্ট করছে। মতুয়া ও সংখ্যালঘুদের টার্গেট করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “বাংলার ৩৩ শতাংশ সংখ্যালঘু মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র সফল হতে দেব না।” ইতিমধেই এই ডামাডোলে ১৫০ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

