উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ব্রিগেডে গীতাপাঠের অনুষ্ঠান চলাকালীন দুই চিকেন প্যাটিস বিক্রেতাকে (Patties case) মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে কৃষ্ণনগরের (Krishnanagar) জনসভায় সেই ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)।
ইতিমধ্যেই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সেই প্রসঙ্গ টেনেই এদিন বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বলেন, ‘একজন গরিব হকার জিনিস বিক্রি করতে গিয়েছে, আর তাঁকে ধরে মেরেছে। যারা গায়ে হাত দিয়েছে, সব ক’টাকে গ্রেপ্তার করেছি। এটা বাংলা, এটা উত্তরপ্রদেশ নয়। এখানে তোমাদের হুকুম চলবে না, আদেশও চলবে না।’
পাশাপাশি সব ধর্মের সঙ্গে সমন্বয়ের বার্তা দিয়েও মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘গীতাপাঠ তো আমরা সকলেই বাড়িতে করি। পাবলিক মিটিং করার কী দরকার? দুর্গাপুজোও আমরা মিলেমিশে করি। আপনারা ভেদাভেদ করছেন কেন? আমি থাকতে বাংলায় ধর্মে ধর্মে, বর্ণে বর্ণে বিভেদ বরদাস্ত করব না।’
প্রসঙ্গত, ব্রিগেডে ৫ লক্ষ কন্ঠে গীতাপাঠের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে রাজ্য বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতা থেকে শুরু করে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সেখানেই চিকেন প্যাটিস বিক্রি করতে গিয়েছিলেন তপসিয়ার বাসিন্দা মহম্মদ সালাউদ্দিন এবং আরামবাগের বাসিন্দা শেখ রিয়াজুল। কিন্তু অভিযোগ, ওই অনুষ্ঠান চলাকালীনই কয়েকজন তাঁদের উপর চড়াও হন। চিকেন প্যাটিস বিক্রির অভিযোগে ওই দুজনকে কান ধরে ওঠবস করানোর পাশাপাশি মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ফেলে দেওয়া হয় বিক্রির জন্য আনা প্যাটিসগুলিও। জানা যায়, গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে আমিষ খাবার বিক্রির মাধ্যমে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছেন তাঁরা। এই অভিযোগ তুলেই ওই দুজনের উপর হামলা চালানো হয়। এরপরই দুই প্যাটিস বিক্রেতা ময়দান থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর রুজু করে তদন্তে নামে পুলিশ। এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

