উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে (Assembly Election 2026) বামেদের সঙ্গে আর জোট নয়, বরং একক শক্তিতেই ময়দানে নামতে চলেছে জাতীয় কংগ্রেস (Congress)। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও প্রদেশ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের দীর্ঘ বৈঠকের পর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লোকসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই ঝুলে থাকা জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে এদিনের বৈঠক সব জল্পনার অবসান ঘটাল।
এআইসিসি-র সদর দফতরে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi), কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, এআইসিসি-র সাধারণ সম্পাদক তথা বাংলার পর্যবেক্ষক গুলাম আহমেদ মীর এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। বৈঠক শেষে গুলাম আহমেদ মীর আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেন, “বঙ্গভোটে এবার কংগ্রেস একাই লড়বে।”
জোট না করার পেছনে মূলত নিচুতলার কর্মীদের আবেগ ও দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির যুক্তি দিয়েছে হাইকম্যান্ড। মীরের কথায়, “সিপিএমের সঙ্গে জোট হলে আমাদের দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মনোবল ভেঙে যায়। কংগ্রেস কর্মীরা চান দল সব আসনে একা লড়ুক এবং নিজেদের হারানো জমি ফিরে পাক।”
উল্লেখ্য, অধীর চৌধুরীকে সরিয়ে শুভঙ্কর সরকারকে (Shubhankar Sarkar) সভাপতি করার পর থেকেই প্রদেশ কংগ্রেসের একটি বড় অংশ একক লড়াইয়ের পক্ষে সওয়াল করছিল। জম্মু-কাশ্মীর ও ঝাড়খণ্ডে জোট রাজনীতির সফল কারিগর হিসেবে পরিচিত গুলাম আহমেদ মীরও এবার বাংলার ক্ষেত্রে জোটের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর মতে, বারবার জোটের ওপর নির্ভরশীলতা রাজ্যে কংগ্রেসের নিজস্ব সত্তাকে বিপন্ন করছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জোট নিয়ে সিপিএম ও কংগ্রেস নেতৃত্বের মধ্যে প্রবল বাদানুবাদ চলছিল। জোটের সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হওয়া নিয়ে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম খোঁচা দিলে কংগ্রেস পালটা জানিয়ে দেয়, তারা কারো কথায় চলবে না। দলের অভ্যন্তরীণ নিয়ম মেনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত আলিমুদ্দিনের ওপর ভরসা না রেখে দিল্লির সবুজ সংকেতে ‘একলা চলো’র পথই বেছে নিল বিধান ভবন।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তে রাজ্যে এবার চতুর্মুখী লড়াইয়ের ক্ষেত্র প্রস্তুত হলো। একদিকে তৃণমূল ও বিজেপি, অন্যদিকে বাম ও কংগ্রেস এককভাবে লড়লে ভোট কাটাকাটির অঙ্ক কোন দিকে ঘোরে, সেটাই এখন দেখার। তবে দিল্লির এই সিদ্ধান্তে প্রদেশ কংগ্রেসের একাংশ খুশি হলেও, বাম শিবিরের জন্য এটি বড় ধাক্কা বলেই মনে করা হচ্ছে।

