মণিশংকর ঠাকুর, তপন, ৮ নভেম্বর : ডাইনি অপবাদে (Witch slander) এক বিধবা আদিবাসী মহিলাকে লাগাতার মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে তপন (TAPAN) ব্লকের করদহের দিঘিপাড়া এলাকায়। এমনকি তাঁকে প্রাণনাশ ও গ্রামছাড়া করার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্ত মহিলা পুলিশের (POLICE) দ্বারস্থ হয়েছেন। মোট ১৪ জনের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। ওই মহিলা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা রীতিমতো আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ। তবে এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
ঘটনার সূত্রপাত ৭ সেপ্টেম্বর। মনসাপুজোর অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে গ্রামের এক ব্যক্তির বাড়িতে যান ওই মহিলা। এর পরদিন গ্রামের বেশ কয়েকজনের শরীর খারাপ হয়। তখন গুজব রটে, ওই মহিলা ‘ডাইনি’। তিনি পুজোয় হাজির হওয়ায় গ্রামবাসী রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর গ্রামবাসীর একাংশ কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে ওই মহিলাকে ‘ডাইনি’ অপবাদ দিতে শুরু করেন।
পরিস্থিতি চরমে ওঠে ৯ সেপ্টেম্বর সকালে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামে একটি সালিশি সভা ডাকা হয়। অভিযোগ, সেখানে ওই মহিলা ও তাঁর ভাগ্নিকে কয়েকজন মারধর করেন। শুধু চড়থাপ্পড়ই নয়, লাঠি ও কঞ্চি দিয়ে তাঁদের নির্মমভাবে প্রহার করা হয়। জামাকাপড় ছিড়ে শ্লীলতাহানি করার পাশাপাশি হাঁসুয়া দিয়ে খুন করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ।
এরপর ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু ঘটনা এখানেই শেষ হয় না। শুক্রবার তিনি বালুরঘাট আদালতে মামলার জন্য গেলে বাইরে তাঁকে ঘিরে ধরেন অভিযুক্তরা। অভিযোগ তুলে নিতে বলার সঙ্গেই ফের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি মামলা তুলে নিতে অস্বীকার করেন।
শনিবার সরাসরি ওই মহিলার বাড়িতে চড়াও হন অভিযুক্তরা। যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে গ্রামছাড়া করার হুমকি দেওয়া হয়। সম্পর্কে বোন, ওই মহিলার পরিবারের এক সদস্যের কথায়, ‘বারবার ডাইনি অপবাদ দিচ্ছে। দিদি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। আমরাও ভয়ে দিন কাটাচ্ছি।’
গঙ্গারামপুর বিজ্ঞানমঞ্চ কেন্দ্রের সম্পাদক অমিত ঘোষ বলেন, ‘ডাইনি বলে কিছু হয় না। এটা মানুষের অন্ধবিশ্বাস। আমরা দ্রুত ওই গ্রামে গিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলব, তাঁদের সচেতন করব যাতে এমন কুসংস্কার আর না ছড়ায় এবং সবাই মিলেমিশে শান্তিতে থাকতে পারেন।’
অভিযুক্ত ১৪ জনের মধ্যে কয়েকজন মহিলাও রয়েছেন। মূল অভিযুক্তর নাম মাইকেল টুডু। তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। কারা কেন মারধর করেছে, আমি জানি না।’ দিঘিপাড়া এলাকায় আক্রান্ত মহিলার বাপের বাড়ি। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি সেখানে থাকেন। তাঁর পরিবারের অন্য এক সদস্যকেও এর আগে ডাইনি বলে গ্রামবাসী সন্দেহ করেছিলেন বলেও অভিযোগ। দ্রুত বিজ্ঞানমঞ্চের তরফে সচেতনতা শিবির করা হোক বলে দাবি উঠছে।

