উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: প্রখ্যাত সমাজ সংস্কারক রাজা রামমোহন রায়কে সরাসরি ‘ব্রিটিশদের দালাল’ এবং ‘ভুয়ো সমাজ সংস্কারক’ আখ্যা দিয়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন মধ্যপ্রদেশের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ইন্দর সিংহ পারমার। বিরসা মুন্ডার সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর এই বিস্ফোরক মন্তব্য প্রকাশিত হতেই দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তীব্র জনরোষ এবং রাজনৈতিক চাপের মুখে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজের মন্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হলেন বিজেপিশাসিত রাজ্যের এই প্রভাবশালী মন্ত্রী।
বিতর্কের সূত্রপাত গত শনিবার, যখন মধ্যপ্রদেশের শিক্ষামন্ত্রী দাবি করেন যে, রামমোহন রায় ঔপনিবেশিক শাসনকালে ইংরেজি শিক্ষার মাধ্যমে ‘ধর্মান্তরণের চক্র’ চালাতেন এবং তিনি ব্রিটিশদের নির্দেশে কাজ করতেন। ইন্দরের কথায়, ব্রিটিশেরা ‘ভুয়ো সমাজ সংস্কারক’ তৈরি করেছিল, যাঁদের অন্যতম ছিলেন রামমোহন। আধুনিক ভারতীয় নবজাগরণের জনক এবং সতীদাহ প্রথার বিলোপের কান্ডারিকে নিয়ে এমন মন্তব্যের পর স্বভাবতই সমালোচনার ঢেউ ওঠে। পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এই মন্তব্যকে ‘বাংলার মনীষীদের প্রতি বিজেপির ঘৃণার সীমা নেই’ বলে তীব্র আক্রমণ করে। অন্যদিকে, জাতীয় কংগ্রেসের মুখপাত্র ভূপেন্দ্র গুপ্ত প্রশ্ন তোলেন, সতীদাহ প্রথা বিলোপের মতো ঐতিহাসিক কাজ কি তবে ‘ব্রিটিশ দালালি’র রূপ? তিনি মন্ত্রীর ইতিহাস জ্ঞান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে মধ্যপ্রদেশের রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বও দ্রুত মন্ত্রীর মন্তব্য থেকে দূরত্ব তৈরি করে। দলের মুখপাত্র শিবম শুক্ল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এটি মন্ত্রীর ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’, যার সঙ্গে দলের অবস্থানের কোনও সম্পর্ক নেই। চতুর্মুখী চাপের মুখে রবিবার দুপুরে ইন্দর সিংহ পারমার একটি ভিডিয়োবার্তায় নিজের অবস্থান সম্পূর্ণ পালটে ফেলেন। তিনি দাবি করেন, বিরসা মুন্ডার জীবন নিয়ে কথা বলার সময় ‘ভুলবশত’ তাঁর মুখ থেকে কথাটি বেরিয়ে যায়।
দুঃখপ্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি এই মন্তব্যের জন্য গভীরভাবে দুঃখিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী। রাজা রামমোহন রায় একজন বিখ্যাত সমাজ সংস্কারক এবং আমি তাঁকে সম্মান করি।’’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সমাজ সংস্কারক হিসাবে রামমোহনের সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা এবং জাতীয় স্তরে এর প্রভাবের গুরুত্ব বুঝেই দ্রুত ভোল পালটালেন মন্ত্রী মশাই। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে, ইতিহাস এবং জাতীয় মনীষীদের নিয়ে মন্তব্য করার সময় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের কতটা সতর্ক থাকা উচিত।

