জলপাইগুড়ি: ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ) জলপাইগুড়ি শাখার কার্যনির্বাহী কমিটিকে ঘিরে রয়েছে বিতর্ক। কমিটির সদস্যদের সিংহভাগ জেলার বাইরের। আইএমএ জেলা কমিটির স্টেট কাউন্সিল সদস্যদের ১৫ জনের মধ্যে ১১ জনই ভিনজেলার চিকিৎসক। অভিযোগ, ডাঃ সুশান্ত রায় উত্তরবঙ্গ লবি শক্তিশালী করতেই ওই বাইরের চিকিৎসকদের জলপাইগুড়ি আইএমএ শাখায় সদস্যপদ দিয়েছেন। অন্যদিকে, বিতর্কিত চিকিৎসক অভীক দে কোনওদিনই জলপাইগুড়িতে চাকরি করেননি। অথচ তিনি আইএমএ’র জলপাইগুড়ি শাখার সহ সভাপতি। যিনি কোনওদিন জলপাইগুড়িতে চাকরি করেননি, কোন স্বার্থে তাঁকে আইএমএ জলপাইগুড়ি শাখার সহ সভাপতি করা হল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জলপাইগুড়ির চিকিৎসকদের একাংশ।
অভিযোগ, অভীককে জলপাইগুড়ি আইএমএ-তে সদস্যপদ দেওয়ার পেছনেও সুশান্ত রায়ের হাত রয়েছে। কোভিডের সময় উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে থাকাকালীন তাঁকে ওই সদস্যপদ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠার পরেও কেন এখনও তাঁকে আইএমএ সদস্যপদ থেকে সাসপেন্ড করা হয়নি তা নিয়ে সরব হয়েছেন চিকিৎসকরা। অন্যদিকে, আরজি কর কাণ্ডের এক মাস পেরিয়ে গেলেও জলপাইগুড়ি আইএমএ’র তরফে কোনও প্রতিবাদ কর্মসূচির উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ চিকিৎসকদের একাংশ।


এই বিষয়ে জলপাইগুড়ি আইএমএ শাখার সম্পাদক ডাঃ সুশান্ত রায় বলেন, ‘এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই জলপাইগুড়ি আইএমএ শাখার সদস্য হতে গেলে তাঁকে জলপাইগুড়ির জেলার বাসিন্দা হতে হবে। একজন এমবিবিএস চিকিৎসক যে কোনও আইএমএ শাখার সদস্যপদ পেতে পারেন।’
জলপাইগুড়ির আইএমএ শাখার মাথায় যে তিন পদাধিকারী রয়েছেন তাঁরা হলেন সভাপতি ডাঃ নিতাই মুখোপাধ্যায়, সম্পাদক ডাঃ সুশান্ত রায় এবং কোষাধ্যক্ষ ডাঃ চঞ্চল ভুঁইয়া। এই চঞ্চল ভুঁইয়া একসময় জলপাইগুড়িতে কর্মরত ছিলেন। সহ সভাপতি পদে থাকা তিনজনের মধ্যে ডাঃ অভীক দে কোনওদিনই জলপাইগুড়িতে কর্মরত ছিলেন না। কিন্তু তাঁকে জলপাইগুড়ি আইএমএ-তে সদস্যপদ দিয়ে সহ সভাপতির পদে বসানোর পেছনে সুশান্ত রায়ের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ। সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সংখ্যা ১২। যার মধ্যে মাত্র চারজন চিকিৎসক জলপাইগুড়ির। বাকি ৮ জনই বাইরের। একইভাবে জলপাইগুড়ি এইএমএ শাখার স্টেট কাউন্সিলের সদস্য রয়েছেন ১৫ জন। যার মধ্যে জলপাইগুড়ির দুজন বাদে বাকি সকলেই বাইরের।
শহরের চিকিৎসক কমলেশ বিশ্বাস বলেন, ‘কোন স্বার্থে অভীক দে-কে সংগঠনের সদস্যপদ থেকে সাসপেন্ড করা হল না তা নিয়ে একটা প্রশ্ন থেকেই যায়।’ আইএমএ’র প্রাক্তন সভাপতি ডাঃ প্রদীপকুমার বর্মা বলেন, ‘কীভাবে এই নতুন কমিটি তৈরি হল সেটা আমারও অজানা।’ সুশান্ত রায়ের নাম না করে শহরের এক চিকিৎসক বলেন, ‘‘বেঙ্গল আইএমএ-তে ভোটে লড়াইয়ের জন্য উত্তরবঙ্গ লবিকে শক্তিশালী করতে ‘উনি’ এইসব কাণ্ড করছেন।’’

