শিবশংকর সূত্রধর, কোচবিহার: পুরসভা দাবি করছে কোচবিহার রিজিওনাল ক্যানসার সেন্টারের (Cooch Behar Cancer Centre) জমির মালিক তারাই। অথচ জমির খতিয়ানে মালিক হিসেবে উল্লেখ রয়েছে অন্য ব্যক্তির নাম। জমি সংক্রান্ত এই জটিলতার জেরে শেষপর্যন্ত স্থগিত হয়ে গেল রিজিওনাল ক্যানসার সেন্টারে অত্যাধুনিক পরিষেবা দেওয়ার কাজ। ২ মার্চ ওই সেন্টার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ট্রাস্টের সঙ্গে বেসরকারি সংস্থা কারকিনোসের চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ১ এপ্রিল থেকে সেন্টার অধিগ্রহণ করে তাদের পরিষেবা শুরুর কথা ছিল। কিন্তু পুরসভা তাদের জমির সমস্যা না মেটানো পর্যন্ত সেখানে পরিষেবা দেওয়া সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ওই সংস্থা। ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতে অত্যাধুনিক চিকিৎসার স্বপ্ন দেখানো কোচবিহার রিজিওনাল ক্যানসার সেন্টারের ভবিষ্যৎ আপাতত বিশবাঁও জলে।
সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়ে পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ সাহা বলেছেন, ‘ওই জমি আমাদেরই। জমি কেনা বা দানপত্র করা হলে খতিয়ান পরিবর্তন করতে হয়। এক্ষেত্রে তা করা হয়নি। তাই কাগজে-কলমে জমি আমাদের হলেও সেটি পুরোনো মালিকের নামেই রয়েছে। দ্রুত সমস্যা মিটিয়ে নেওয়া হবে।’ কোচবিহার রিজিওনাল ক্যানসার সেন্টার ট্রাস্টের সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন বিদায়ি উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ। তাঁর কথায়, ‘কাগজপত্র নিয়ে কিছু একটা সমস্যা হয়েছে শুনেছি। ৪ মে’র পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসব।’ কারকিনোসের আধিকারিক জাভেদ আখতারের বক্তব্য, ‘জমিটির খতিয়ান নম্বর নিয়ে সমস্যা রয়েছে। ওটা পেলে তারপরই সেখানে কাজ শুরু করা হবে।’


কোচবিহারের বিনপট্টিতে থাকা ক্যানসার সেন্টারটি বর্তমানে পরিকাঠামোর অভাবে ধুঁকছে। ক্যানসারের প্রাথমিক কিছু চিকিৎসা হলেও এই রোগের উন্নতমানের চিকিৎসার জন্য জেলার বাইরে যেতে হয় বাসিন্দাদের। এই পরিস্থিতিতে সেন্টারটি অধিগ্রহণ করে সেখানে পরিষেবা দিতে চায় কারকিনোস। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর মার্চের শুরুতে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষরও হয়। কথা ছিল ছয় মাসের মধ্যে সেখানে ক্যানসারের অস্ত্রোপচারের পরিষেবা চালু করা হবে। সেজন্য অত্যাধুনিক মডিউলার অপারেশন থিয়েটার তৈরি হবে। পাশাপাশি সিটি স্ক্যান, আলট্রাসনোগ্রাফি, কেমোথেরাপি, লিনিয়র অ্যাক্সিলারেটরের মাধ্যমে রেডিওথেরাপি, ল্যাপারোস্কোপি পরিষেবা থাকবে। সাধারণ বেডের পাশাপাশি সংকটজনক ক্যানসার রোগীদের জন্য আইসিইউ খোলা হবে। ধাপে ধাপে ক্যানসার সম্পর্কিত চিকিৎসার সব ব্যবস্থাই এখানে করা হবে বলে সংস্থা ঘোষণা করে। কিন্তু এরমধ্যেই জমি সংক্রান্ত জটিলতার জেরে এই কাজ থমকে গেল। দ্রুত সমস্যা মিটিয়ে নতুন পরিষেবা চালু হোক সেই দাবি উঠেছে।

