গৌরহরি দাস, কোচবিহার: একাদশ শ্রেণির পরীক্ষা শেষের পর, এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে কোচবিহার (Cooch Behar) জেলার অধিকাংশ স্কুলে দ্বাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। ক্লাসও শুরু হয়ে গিয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে দ্বাদশ শ্রেণির তৃতীয় সিমেস্টারের পরীক্ষা হবে। অথচ মে মাস শুরু হয়ে গেলেও জেলার অধিকাংশ স্কুলে এখনও পর্যন্ত বাংলা বই (Bengali Textbook) এসে পৌঁছায়নি। এর ফলে পঠনপাঠনে সমস্যা হচ্ছে। মে মাস শুরু হয়ে যাওয়ার পরেও এখনও পর্যন্ত স্কুলগুলোতে বাংলা বই এসে না পৌঁছানোয় শিক্ষক এবং পড়ুয়াদের মনে ক্ষোভ জন্মেছে। বাংলা বই এসে না পৌঁছানোয়, সঠিক সময়ে সিলেবাস শেষ করা যাবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় শিক্ষকরা।
এই প্রসঙ্গে কোচবিহার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, ‘স্কুলগুলোতে বই চলে আসার কথা। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।’


কোচবিহার রামভোলা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক তপনকুমার দাস বলেন, ‘এপ্রিলের মধ্যে বই আসার কথা ছিল। কিন্তু এখনও স্কুলে বাংলা বই এসে পৌঁছায়নি। সেপ্টেম্বর মাসেই দ্বাদশ শ্রেণির তৃতীয় সিমেস্টারের পরীক্ষা। এই অবস্থায় ছাত্রছাত্রীরা যদি এখনও বই হাতে না পায় তাহলে ওরা কবে পড়াশোনা করবে? আর পরীক্ষাই বা কীভাবে দেবে? ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের বিষয়টি তো সবার আগে ভাবা উচিত।’
মে মাস শুরু হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত বাংলা বই হাতে না পাওয়ায় পড়ুয়ারাও চিন্তিত। উদ্বিগ্ন সুরে দিনাহাটার শনিদেবী হাইস্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী অলিভা ভট্টাচার্য বলে, ‘সেপ্টেম্বর মাসে পরীক্ষা। মে মাস শুরু হয়ে গেল, অথচ এখনও বাংলা বই হাতে পাইনি। পড়াশোনা করতে ভীষণ সমস্যা হচ্ছে।’
শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে যে, কোচবিহার জেলায় সরকারি ও সরকারপোষিত মিলিয়ে মোট ২০৯টি উচ্চমাধ্যমিক স্কুল রয়েছে। দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হয়ে যাওয়ার পরেও, এখনও পর্যন্ত স্কুলগুলোতে বাংলা বই এসে না পৌঁছানোয় ক্ষুব্ধ বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনগুলির সদস্যরা।
এই প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষক সমিতির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সরকার বলেন, ‘মে মাস শুরু হয়ে গিয়েছে অথচ এখনও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা বাংলা বই হাতে পায়নি। এতে ছাত্রছাত্রীরা যেমন সমস্যায় পড়েছে, তেমনি আমরাও স্কুলে ঠিকমতো ক্লাস নিতে পারছি না। সেপ্টেম্বরে দ্বাদশ শ্রেণির তৃতীয় সিমেস্টারের পরীক্ষা হবে। বর্তমানে যা পরিস্থিতি তাতে মনে হচ্ছে ঠিক সময় সিলেবাসই সম্পূর্ণ করানো যাবে না।’
মাথাভাঙ্গার কোদালখেতি হরচন্দ্র হাইস্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী প্রিয়াংকা বর্মন এই প্রসঙ্গে বলে, ‘এখনও বাংলা বই হাতে না পাওয়ায় স্কুলে ক্লাস করতে খুব সমস্যা হচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসে পরীক্ষা। কীভাবে সিলেবাস শেষ হবে সেটা ভেবে চিন্তা হচ্ছে।’
এই প্রসঙ্গে মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির জেলা কমিটির সম্পাদক সুরজিৎ পণ্ডিত বলেন, ‘ক্লাস শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখনও বাংলা বই হাতে পায়নি পড়ুয়ারা। এর ফলে ঠিক সময়ে সিলেবাস শেষ হবে না। পড়ুয়াদের ক্ষতি হবে। আসলে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার বিষয় নিয়ে এই সরকার কিছুই ভাবে না।’
পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির জেলা কমিটির সভাপতি মানস ভট্টাচার্য বলেন, ‘প্রশাসন এখন নির্বাচন কমিশনের অধীনে। তাই কোনও সমস্যা হতে পারে। এই বিষয়ে খোঁজখবর নেব।’

