প্রতাপকুমার ঝাঁ, জামালদহ: বন্ধুর কোনও পদবি হয় না, হাত বাড়ালেই বন্ধুর ঠিকানা পাওয়া যায়! বন্ধু এমন একটি শব্দ, যা দেশ ও কালের সীমানা মানে না। বিশ্বস্ত বন্ধু এখনও পাওয়া যায়। যার উদাহরণ, ক’দিন আগে সাতসমুদ্র পেরিয়ে সুদূর প্যারিস থেকে কোচবিহারের (Cooch Behar) তুফানগঞ্জে (Tufanganj) বন্ধু মন্টির খোঁজে আসা এক তরুণ। সামাজিক মাধ্যমে যা ভাইরাল হতে বেশি সময় নেয়নি। পথ দুর্ঘটনায় জখম বন্ধুর পাশে থেকে নতুন দৃষ্টান্ত সকলের কাছে তুলে ধরেছে কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জের জামালদহ তুলসীদেবী উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা।
গত শনিবার রাতে জামালদহ (Jamaldaha) থেকে জোড়শিমুলি রাসমেলায় যাওয়ার পথে কেসারহাট সংলগ্ন এলাকায় মোটরবাইকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়লে গুরুতর জখম হন জামালদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের বগেরডাঙ্গার মনোরঞ্জন কুঙ্গার। দুর্ঘটনার রাতেই জামালদহ তুলসীদেবী উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র মনোরঞ্জনকে জামালদহ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় শিলিগুড়িতে। বর্তমানে শিলিগুড়িতে একটি নার্সিংহোমে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে মনোরঞ্জন। আঘাত এতটাই গুরুতর যে এখনও পর্যন্ত মনোরঞ্জন চোখ খুলতে পারেনি। করতে হবে জটিল অস্ত্রোপচার। নার্সিংহোমে মনোরঞ্জনকে ভর্তি করার পর পরিবার বুঝতে পেরেছে চিকিৎসার জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন। ছেলের চিকিৎসার জন্য সকলের কাছে আর্থিক সাহায্য চাইছেন পরিযায়ী শ্রমিক বাবা।
বন্ধুর পথ দুর্ঘটনার কথা শুনে চিন্তায় ঘুম নেই সহপাঠীদেরও। প্রিয় বন্ধুর এমন অবস্থায় তার চিকিৎসার জন্য অর্থের ব্যবস্থা করতে প্ল্যাকার্ড হাতে বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন তারই সহপাঠী দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা। সঙ্গ দিয়েছে একাদশ শ্রেণির কিছু পড়ুয়াও। তাদের মধ্যে দিজু বর্মন, লিজা সরকার, সমীরণ রায়বীররা জানাচ্ছে, তারা সকলে মিলে প্রথমে বিদ্যালয়ে, তারপর জামালদহ বাজার, বাজার সংলগ্ন বাড়িগুলিতে গিয়ে চিকিৎসার জন্য অর্থসংগ্রহ করছে। পাশাপাশি, নিজেদের জমানো টাকাও বন্ধুর চিকিৎসার জন্য দিয়েছে। কয়েকদিন ধরে যে অর্থসংগ্রহ হবে, তার সমস্তটাই ব্যয় হবে মনোরঞ্জনের চিকিৎসার জন্য।
ছাত্রের এমন অবস্থার কথা শুনে চিন্তিত বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক সুনীল দাস সহ অন্য শিক্ষকরা। এদিন ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকের পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকরাও ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। সুনীল দাস বলেন, ‘মনোরঞ্জন পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলোয় খুব ভালো। তার এই অবস্থায় যেভাবে তার সহপাঠীরা পাশে দাঁড়িয়েছে, তা আগামীদিনে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

