গৌরহরি দাস, কোচবিহার: রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন স্কুলে ছাত্রীদের উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ক্রমশই বাড়ছে। ধীরে ধীরে এটি একটি সামাজিক ব্যাধির আকার ধারণ করছে। এই অবস্থায় এমন অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে এবার স্কুলগুলিতে পকসো কমিটি গঠনের নির্দেশ পাঠাল রাজ্য শিক্ষা দপ্তর। কোচবিহার (Cooch Behar) জেলা সমগ্র শিক্ষা মিশনের ডিস্ট্রিক্ট এডুকেশন অফিসারের দপ্তরে ইতিমধ্যেই এবিষয়ে সরকারি নির্দেশিকা পৌঁছে গিয়েছে। তাতে জেলার প্রাথমিক, উচ্চপ্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক সমস্ত স্কুলে এই কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। জেলা শিক্ষা দপ্তর সেই নির্দেশিকা জেলার সমস্ত স্কুলে পাঠিয়েছে। এবিষয়ে সমগ্র শিক্ষা মিশনের কোচবিহার ডিস্ট্রিক্ট এডুকেশন অফিসার মহাদেব শৈব বলেন, ‘আমরা স্কুলগুলিতে পকসো কমিটি গঠন সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকা পেয়েছি। তা ইতিমধ্যেই স্কুলগুলিতে পাঠানো হয়েছে।’
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, স্কুলগুলিতে পকসো কমিটিতে (POCSO Committee) স্কুলের প্রধান শিক্ষক থাকবেন। এছাড়া স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি ও একজন শিক্ষক প্রতিনিধিকেও রাখতে বলা হয়েছে। শিক্ষক প্রতিনিধি হিসাবে শিক্ষিকাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। এছাড়াও কমিটিতে অভিভাবকদের থেকে দুজন এবং ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে থেকে একজন প্রতিনিধিকে রাখতে হবে। পাশাপাশি পদাধিকার বলে অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক ও ব্লক মেডিকেল হেলথ অফিসারও ওই কমিটিতে যুক্ত থাকবেন। ফলে নির্দেশিকা অনুযায়ী আট থেকে নয়জন সদস্য কমিটিতে থাকবেন। জেলা শিক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, কোচবিহার জেলায় মোট ১৮৫৩টি প্রাথমিক, ৩০০টির মতো উচ্চপ্রাথমিক, ৪১টি মাধ্যমিক ও ২০৯টি উচ্চমাধ্যমিক স্কুল রয়েছে। স্কুলগুলিতে প্রায় চার লক্ষেরও বেশি ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে।


সম্প্রতি কোচবিহার জেলা সহ রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে একাধিক ছাত্রীর উপর যৌন নির্যাতনের খবর সামনে এসেছে। কখনও ঘটনায় অভিযুক্ত হিসাবে সামনে এসেছে স্কুলের শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মীর নাম আবার কখনও ছাত্রদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সময়ে এইসব ঘটনায় কোচবিহার জেলা সহ রাজ্যের নানা স্কুলে অভিভাবকরা বিক্ষোভও দেখিয়েছেন। এমনকি পরিস্থিতি সামলাতে স্কুলগুলিতে পুলিশও গিয়েছে।
সম্প্রতি কোচবিহার-২ ব্লক, মাথাভাঙ্গা সহ একাধিক ব্লকের স্কুলে এধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। নির্দেশিকার বিষয়ে মাথাভাঙ্গার কোদালখেতি হরচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় সরকার বলেন, ‘এই উদ্যোগে পড়ুয়াদের ভালো হবে। বিকৃত মানসিকতার শিক্ষক ও ছাত্ররা সতর্ক হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ছাত্রী নিগ্রহের ঘটনা ঘটবে না বলেই আশা করা যায়। আমরা ইতিমধ্যেই স্কুলে এই কমিটি গঠন করেছি।’ একইভাবে দিনহাটার শৌলমারি নছিমিয়া হাই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক বিদ্যুৎ সরকারও কমিটি তৈরি করেছেন বলে জানিয়েছেন।

