বক্সিরহাট: উত্তমকুমার ব্রজবাসী, নিশিকান্ত দাস, মোমিনা বিবি নয়, অসম থেকে এনআরসি (NRC) নোটিশ পেয়েছেন কোচবিহারের (Cooch Behar) বক্সিরহাটের (Bakshirhat) রামপুরের বাসিন্দা দীপঙ্কর সরকার। গত মার্চ মাসে অসম ফরেনার্স ট্রাইবিউনাল থেকে দ্বিতীয় নোটিশ পাওয়ার পর ওই যুবক অসমে গিয়ে জমির দলিল ও ভোটের তালিকা দেখিয়েছেন। তবে ফরেনার্স ট্রাইবিউনাল সন্তুষ্ট হয়নি তাতে। নথি সংগ্রহে একবার কলকাতা, গুয়াহাটি ছুটে যেতে হয় তাঁকে। এনআরসি নোটিশ নিয়ে উদ্বিগ্ন দীপঙ্কর।
তিনি জানিয়েছেন, প্রায় ১১ বছর আগে গ্রামের আরও তিন পরিচিতের সঙ্গে কাজের সন্ধানে অসমে গিয়েছিলেন তিনি। অসমের গুয়াহাটির বেরুপাড়া শহরে ভাড়া বাড়িতে থেকে কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। অসম পুলিশ তাঁদের বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করে পল্টনবাজার থানায় নিয়ে যায়। এরপর তাঁরা ভোটার কার্ড, আধার কার্ড দেখিয়ে প্রমাণ করেন, তাঁরা বাংলাদেশি নন। তাঁদের জানানো হয়, বাড়িতে ফিরে ১৯৬৬ সালের ভোটার তালিকা ও ১৯৭১ সালের জমির দলিল তৈরি রাখতে। দিন পনেরোর মধ্যে ফোন করে ডাকা হলে সেই নথি নিয়ে থানায় হাজির হতে বলা হয় তাঁদের। এরপর প্রত্যেকের আঙুলের ছাপ, মোবাইল নম্বর ও বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে রাখা হয় থানায়।


এই ঘটনার প্রায় এক মাস কেটে গেলেও অসমের থানা থেকে আর কোনও ফোন আসেনি। এরপর গত জানুয়ারি মাসে শেষ সপ্তাহে তাঁর কাছে অসম ফরেনার্স ট্রাইবিউনাল থেকে একটি নোটিশ আসে। সেই সময় ওই নোটিশে অতটা আমল দেননি তিনি। ফের গত মার্চ মাসে বাড়িতে আসে দ্বিতীয় নোটিশ। তারপর তিনি ১৯৬৬ সালের ভোটার তালিকা সহ জমির কাগজপত্র ও বিভিন্ন প্রমাণপত্র নিয়ে অসমে যান। সেখানে আইনজীবী মারফত সব কাগজপত্র দেখার পরও সন্তুষ্ট হয়নি ফরেনার্স ট্রাইবিউনাল। তাঁর বাবার ১৯৬৬ সালের সার্টিফায়েড ভোটার লিস্ট চেয়েছেন তাঁরা। সেই ভোটার তালিকা জোগাড় করতে মহকুমা শাসকের দপ্তরে যান তিনি। দপ্তরে সেই কপি নেই বলে জানানো হয়। কলকাতা থেকে ১৯৬৬ সালের ভোটার লিস্ট জোগাড় করেন দীপঙ্কর। এরপর দিন পনেরো আগে আইনজীবী মারফত সেই নথি জমা দিয়েছেন তিনি।
দীপঙ্করের কথায়, ‘আমার বাবার জন্ম এখানে। শুধুমাত্র অসমে কাজ করতে গিয়ে আজ হেনস্তা হতে হচ্ছে আমাকে। অনুপ্রবেশকারীর তকমা দেওয়া হয়েছে। আমি অনুপ্রবেশকারী নই, তা প্রমাণ করতে সমস্ত কাজকর্ম ফেলে একবার গুয়াহাটি আর একবার কলকাতায় দৌড়তে হচ্ছে।’

