সায়নদীপ ভট্টাচার্য, বক্সিরহাট : শীতের শুরুতেই কোচবিহারের রসিকবিলে হাজির হয়েছে ভিনদেশি অতিথিরা। ঝাঁকে ঝাঁকে পরিযায়ী পাখি উড়ে বেড়াচ্ছে বিলের ওপর আকাশে। জলাশয়ের ধারে কান পাতলেই ভেসে আসছে তাদের কলতান। সুদূর সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া থেকে গ্রে হেডেড ল্যাপউইং, লেজার হুইসলিং ডাক, ব্ল্যাক হেডেড আইবিস, ইনটেল, মালার্টের মতো পাখিরা এখানে এসেছে। তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে এখানকার ডাহুক, পানকৌড়িদের। বিভিন্ন প্রজাতির বকও এখানে এসেছে। সারা বছর সেখানে নানা প্রজাতির পাখির দেখা মিললেও মূলত শীতকালে দেশ-বিদেশের অতিথির আগমনে সরগরম হয়ে ওঠে রসিকবিল।
তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের রসিকবিলের জলাভূমিতে শীতে প্রতি বছরই প্রচুর পরিযায়ী পাখির ভিড় হয়। মূলত পরিযায়ী পাখিদের জন্যই ওই এলাকা পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তী সময়ে এখানকার বিশাল জলাশয় লাগোয়া চত্বরে মিনি জু গড়ে ওঠে। তবে এখনও শীতের মরশুমে পাখি দেখার টানেই প্রচুর পর্যটক প্রতি বছর সেখানে যান। বন বিভাগের কোচবিহারের এডিএফও বিজনকুমার নাথ বলেন, ‘রসিকবিলে পরিযায়ী পাখির দল আসতে শুরু করেছে। আশা করছি, এদের সংখ্যা অনেকটাই বাড়বে।’
যাঁরা পাখির ছবি তুলতে ভালোবাসেন তাঁদের ভিড় এখন জলাশয়ের চারধারে। মঙ্গলবার বিকেলে রসিকবিলে পরিযায়ী পাখি দেখতে আসা রাজেশ সরকার বললেন, ‘বছরের এমন সময়ই বাইরের দেশের পাখিরা আসে। কয়েকদিন আগে এসেও এদের দেখতে পাইনি। এদিন এসে পাখিদের আনাগোনা এবং হাঁকডাকে মন ভালো হয়ে গেল।’ পাখিপ্রেমীদের একটা অংশের কথায়, সময়ের অনেক আগেই বিলের কচুরিপানা পরিষ্কার করা হয়েছে। বিগত কয়েক বছর ধরে বনভোজন বন্ধ রয়েছে। তাতে পরিবেশ দূষণ অনেকটাই ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। পরিবেশপ্রেমী সংগঠন ন্যাস গ্রুপের সম্পাদক অরূপ গুহ বলেন, ‘পরিযায়ী পাখিদের আগমন পাখিপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত আনন্দের। পরিবেশ দূষণ কমার ফলে রসিকবিলে পাখির সংখ্যা অনেকটাই বাড়ছে।’ বন দপ্তরের হিসাবে, গত বছর এখানে সাড়ে সাত হাজার পরিযায়ী পাখি এসেছিল। সেই সংখ্যা এবারে অনেকটাই বাড়বে বলে বন দপ্তরের আশা।

