মনোজ বর্মন, শীতলকুচি : ভোটার তালিকা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে হইচইয়ের মধ্যেই শীতলকুচি ব্লকের নলগ্রামে এই তালিকায় পাঁচ বাংলাদেশির নাম রয়েছে বলে ওঠা অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক হইচই শুরু হয়েছে। কীভাবে ওই বাসিন্দাদের নাম এই তালিকায় উঠল, কেনই বা ওই নামগুলি বাদ দেওয়া হল না বলে নানা প্রশ্ন ওঠা শুরু করেছে। এবিষয়ে শীতলকুচির বিধায়ক বিজেপির বরেনচন্দ্র বর্মনের বক্তব্য, ‘এধরনের কাজ পশ্চিমবঙ্গেই সম্ভব। তৃণমূল কংগ্রেসের মদতেই এসব হচ্ছে। কী কারণে এমনটা হল সে বিষয়ে প্রশাসনের কাছে জবাব চাইব।’ এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে শীতলকুচির বিডিও সোফিয়া আব্বাস বললেন, ‘ওই পাঁচজনের নাম আগেই ভোটার তালিকায় ছিল। ভারতের নাগরিক হওয়ায় তাঁরা বিগত দিনে ভোট দিয়েছেন। গত কয়েক বছরে তাঁরা অবশ্য বাংলাদেশে থেকেছেন। সেখানকার নাগরিকত্ব নিয়েছেন কি না জানা নেই। গোটা বিষয়টি জানার জন্য সংশ্লিষ্ট বুথের বিএলআরও-কে ডেকে পাঠানো হয়েছে।’
শুক্রবার মাথাভাঙ্গা-শীতলকুচি সড়কে সাটিমারি মোড় থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পশ্চিমে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন গ্রাম নলগ্রামে ভোটার তালিকায় থাকা নাজির হোসেন, নাজিরা বিবি, সফিকুল ইসলাম, সোয়েল রানা মিয়াঁ, রাহুল আমিন মিয়াঁর বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হল। গ্রামের অনেকেই এই পাঁচ ভোটারকে চেনেন না বলেই সাফ জানিয়ে দিলেন। নলগ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য কবির হোসেনের কাছে যাওয়ার পর এই পাঁচজনের বিষয়ে জানা গেল। তাঁর কথায়, ‘ওই পাঁচ ভোটারকে আমি চিনি। ওঁরা একসময় এই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। পরবর্তীতে তাঁরা বাংলাদেশের বাসিন্দা হন। কিন্তু এখনও ভোটার তালিকায় ওঁদের নাম রয়ে গিয়েছে।’ ওই গ্রামেই মহাবুল হোসেন নামে এক বাসিন্দার সঙ্গে দেখা হল। তাঁর কথায়, ‘ভোটার লিস্টে নাম থাকা সফিকুল ইসলাম আমার কাকা হন। তিনি বাংলাদেশে থাকেন। সেখানকার বাসিন্দা হয়েছেন। এখানে ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ দেওয়ার কথা স্থানীয় বিএলআরও-কে বলার পরেও নাম থেকেই গিয়েছে।’
বাসিন্দাদের অভিযোগ, এধরনের বহু ভোটারেরই নাম তালিকায় রয়েছে। এই গ্রামের কিছু অংশ ছিল একসময় সাবেক ছিটমহলের অংশ। ছিটমহল বিনিময়ের আগেই অনেক বাসিন্দা কৌশলে নলগ্রামের ভোটার হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ছিটমহলের বাসিন্দাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হলে আবারও তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় তোলা হয়। বিষয়টি নিয়ে বিজেপি সরব হয়েছে। স্থানীয় জেলা পরিষদ সদস্য তথা তৃণমূল কংগ্রেসের বড় কৈমারি অঞ্চল সভাপতি জয়ন্তকুমার রায় অবশ্য বললেন, ‘এমন কোনও বাসিন্দার নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে কি না সে বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। এবিষয়ে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে বলব।’ এনিয়ে রাজনীতির কিছুই নেই বলে তাঁর দাবি।

