কোচবিহার: রবি আগেই অস্তমিত। আঁধারে তাঁর অনুগামীরা। এত বছর যাঁরা ‘রবিদা’র’ পাশে থেকেছেন, গলা ফাটিয়েছেন, সেই খোকন মিয়াঁ, পরিমল বর্মন, আজিজুল হকদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হবে? প্রাক্তন পুর চেয়ারম্যানের মতো তাঁরাও কি সাইডলাইনে থেকে যাবেন! কোচবিহারের রাজনীতিতে তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
রবি-পার্থ কোচবিহারের বড় নেতা। দলের রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁদের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, এই দুই নেতা যে করেই হোক, নিজেদের আখের গুছিয়ে নেবেন। পুর চেয়ারম্যানের পদ গেলেও দল রবি ও পার্থকে তিনটি করে বিধানসভা কেন্দ্রের কোঅর্ডিনেটরের দায়িত্ব দিয়েছে। এখন থেকেই নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে দিনরাত পড়ে থাকছেন রবি। অপরদিকে, একইভাবে পার্থপ্রতিম রায়ও দীর্ঘদিন ধরে শীতলকুচিতে সময় কাটাচ্ছেন। যদিও টিকিট পাবেন কি না, সে বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা নেই। এবার প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে পরিমল, খোকন, আজিজুলদের ভাগ্যে কী রয়েছে?
বড় মাপের নেতা না হওয়ায় তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে সেভাবে সরাসরি যোগাযোগও নেই। রবি-পার্থর হয়ে দীর্ঘদিন ধরে গলা ফাটানোর কারণে দলের জেলা নেতৃত্বের সঙ্গেও তাঁদের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। যার মাশুল হিসাবে পরিমল বর্মনকে ইতিমধ্যে তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতির পদ হারাতে হয়েছে। প্রথম দিন থেকে দল করে আসার পাশাপাশি দীর্ঘদিন দলের ব্লক সভাপতি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ সামলেছেন খোকন মিয়াঁ। তিনি দলের কিষান খেতমজদুর সংগঠনের জেলা সভাপতি পদে রয়েছেন। কিন্তু দলে গুরুত্ব পাচ্ছেন না। অনেক নতুন ও ছোট-বড় নেতা স্থান পেলেও অভিষেকের জনসভার মঞ্চে খোকনের ঠাঁই হয়নি। প্রশ্ন উঠেছে, রবির এই অনুগামীদের এমন অবস্থা হবার কথা ছিল না। দলের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক, চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মন, মন্ত্রী উদয়ন গুহ, সাংসদ জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, বিধায়ক পরেশচন্দ্র অধিকারী, সংগীতা রায়, সবার সঙ্গে তাঁদের যে রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে, সেটা তো রবি-পার্থর সঙ্গে থাকার কারণেই।
বিষয়টি যে পরিমল–খোকনরাও বুঝতে পারছেন না, তা নয়। বিষয়টি নিয়ে পরিমল বললেন, ‘রবিদার সঙ্গে থাকার ফলে আমরা ডুবেছি, এটা ঠিক। এটাও ঠিক, তাঁর সঙ্গে থাকার ফলেই একসময় আমরা ভেসেছি। ফলে রাজনীতিতে ওঠাপড়া থাকে। আমরা আরও কিছুদিন দেখব। না হলে বিকল্প ব্যবস্থা নেব।’ খোকন বলেন, ‘যা অবস্থা দেখছি, তাতে দলে আমাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অন্ধকার। কিছুদিন অপেক্ষা করব। না হলে অন্য সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ আজিজুলের কথা, ‘দীর্ঘদিন ধরে দল করার পরও আমাদের এমন অবস্থা হবে, ভাবিনি। শুরু থেকে রবিদার সঙ্গে থাকার ফলে হয়তো এমন কোণঠাসা হলাম। দলের অফিশিয়াল লবির সঙ্গে থাকলে হয়তো আমাদের এমন অবস্থা হত না।’

