মেখলিগঞ্জ: প্রায় এক বছর ধরে মেখলিগঞ্জ পুরসভার বোর্ড অফ কাউন্সিলার্সের (বিওসি) বৈঠকে গরহাজির মেখলিগঞ্জ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা মেখলিগঞ্জ পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার কেশব দাস। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর ১৪ জানুয়ারি মেখলিগঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার প্রভাত পাটনি। তারপর থেকে আর কোনও বিওসি-র বৈঠকে দেখা মেলেনি প্রাক্তন চেয়ারম্যানের। যার জেরে স্বাভাবিকভাবেই মেখলিগঞ্জ পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা নিজেদের অভাব-অভিযোগ মেখলিগঞ্জ পুরসভার বিওসি-র বৈঠকে তুলে ধরতে পারছেন না। মেখলিগঞ্জ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান কেশব দাস বলেন, ‘‘এই বিষয়ে বিধায়ক ভালো বলতে পারবেন। এটি অবৈধভাবে তৈরি বোর্ড। এর বিরুদ্ধে আমি আইনের দ্বারস্থ হয়েছি। আমার এক্তিয়ারভুক্ত কাজ আমি করে দিচ্ছি। সাধারণ বাসিন্দাদের পাশাপাশি ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ প্রকল্পে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছি। ওয়ার্ডের বিভিন্ন কাজ বোর্ড ইচ্ছামতো করাচ্ছে। সেখানে আমার বা ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের কথা থাকছে না।’’
মেখলিগঞ্জ পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দিলীপ অধিকারী বলেন, ‘প্রক্রিয়া অনুযায়ী আমরা আমাদের দাবি জানাতে পারছি না। চেয়ারম্যান যখন আসেন, তখন দাবিদাওয়ার কথা জানানো হয়। কিন্তু এলাকার একজন জনপ্রতিনিধি যেভাবে অভাব-অভিযোগ তুলে ধরেন তা এক্ষেত্রে হচ্ছে না। কাউন্সিলার বিওসি-র বৈঠকে যান না বলে জানি। ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’-এ আমরা বিভিন্ন প্রস্তাব রাখছি। নির্ধারিত বাজেটের মধ্যে যতটা সম্ভব কাজ হচ্ছে।’
মেখলিগঞ্জ পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অভিজিৎ কুণ্ডু বলেন, ‘৬ নম্বর ওয়ার্ডে নিকাশিনালা থেকে পানীয় জল, বিভিন্ন বিষয়ে সমস্যা রয়েছে। এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য পুরসভার বিওসি-র বৈঠকে আলোচনা করা প্রয়োজন। ওয়ার্ডের বাসিন্দারা কাউন্সিলার নির্বাচিত করেছেন। কিন্তু উনি যদি পুরসভায় না যান তবে কীভাবে আমাদের অভাব-অভিযোগ পুরসভার কাছে পৌঁছোবে তা আমাদের জানা নেই।’
মেখলিগঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান প্রভাত পাটনি বলেন, ‘চেয়ারম্যান পদ থেকে সরার পর প্রাক্তন চেয়ারম্যান আর কোনও বিওসি-তে আসেননি। আমরা বারবার ওঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। ওঁর কাছে পরিষেবার চেয়ে পদের গুরুত্বই বোধহয় বেশি। ওয়ার্ডের মানুষদের সমস্যার কথা মাথায় রেখে আমরা বিগতদিনেই বিওসি-তে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমিই চেয়ারম্যান হিসেবে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষদের দাবিদাওয়া বিওসি-তে তুলে ধরব। সেইমতোই নিয়মিত ওয়ার্ডে গিয়ে পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’
প্রায় বছর দেড়েক আগে মেখলিগঞ্জ পুরসভার একাধিক ওয়ার্ডের কাউন্সিলাররা মেখলিগঞ্জ পুরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান কেশব দাসের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন। এই বিষয়ে মেখলিগঞ্জ মহকুমা শাসকের নিকট লিখিতভাবে জানান তাঁরা। কিন্তু পরবর্তীতে চাপের কারণে তা তুলে নেন কাউন্সিলাররা। পরবর্তীতে ফের কেশব দাসের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন কাউন্সিলাররা। শেষে আস্থা ভোটে পরাজিত হন তিনি।

