উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: সংঘর্ষ থামার কোনো লক্ষণ নেই, উলটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) একের পর এক হুমকির জেরে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা চরমে। সপ্তাহের শুরুতেই সোমবার লাফিয়ে বাড়ল অপরিশোধিত তেলের দাম (Crude Oil Price Hike)। ইরান-ইজরায়েল ও আমেরিকা সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ল জ্বালানি বাজারে। রবিবারের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো এবং ব্রিজে ভয়াবহ হামলার যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বিনিয়োগকারীরা।
রেকর্ড উচ্চতায় ব্রেন্ট ক্রুড
সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে (International Market) ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ২.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ফের ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে গেল। ব্রেন্টের পাশাপাশি ইউএস ডব্লিউটিআই অয়েলের দামও ব্যারেল প্রতি ১১২ ডলারের গণ্ডি ছুঁইছুঁই। সবথেকে বেশি প্রভাব পড়েছে লন্ডন গ্যাস অয়েল ফিউচার্সে, যার দাম একধাক্কায় ৫.৭ শতাংশ বেড়েছে। মার্চ মাসের শুরু থেকেই তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল, কিন্তু ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কড়া বার্তায় তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
অনিশ্চয়তার মুখে বিশ্ব অর্থনীতি
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গত সপ্তাহে যুদ্ধ বিরতির যে ক্ষীণ আশা তৈরি হয়েছিল, ট্রাম্পের রবিবারের পোস্ট তা ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। ট্রাম্প স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই সংঘর্ষ আরও ২-৩ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। বিশেষ করে ইস্টার সানডের দিন ইরানের পাওয়ার প্ল্যান্ট ও সেতু গুঁড়িয়ে দেওয়ার যে হুঙ্কার তিনি দিয়েছেন, তা বাজারের সেন্টিমেন্টের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ওদিকে, তেহরান সম্প্রতি বেশকিছু অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমানকে ধরাশায়ী করার দাবি করায় আমেরিকার রণংদেহি মেজাজ আরও বেড়েছে।
আমেরিকা যদি সত্যিই ইরানের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার তীব্রতা বাড়ায়, তবে জ্বালানি তেলের দাম ১২০ ডলারও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে সপ্তাহের শুরুতেই তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি মধ্যবিত্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করল।

