উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রাজভবনে প্রবেশ ‘নিষিদ্ধ’ করা হল রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের (Chandrima Bhattacharya)। রাজভবন চত্বরে পুলিশেরও প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছেন রাজ্যপাল (Bengal Governor) সিভি আনন্দ বোস (CV Ananda Bose)। বৃহস্পতিবার রাতে রাজভবনের তরফে বিবৃতি জারি করে একথা জানানো হয়েছে।
রাজ্যপালের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সরব হয়েছিলেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা। সংবাদমাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন তিনি। তার প্রেক্ষিতে রাজভবনের তরফে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘রাজ্যপালের সম্মানহানি এবং তাঁর বিরুদ্ধে অসাংবিধানিক বিবৃতি দেওয়ার জন্য চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। কলকাতা, দার্জিলিং এবং ব্যারাকপুরের রাজভবনে ঢুকতে পারবেন না তিনি।’ এমনকি, চন্দ্রিমা কোনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলে, সেখানে রাজ্যপাল যাবেন না বলেও জানিয়েছে রাজভবন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘চন্দ্রিমার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কী পদক্ষেপ করা যায়, তা জানতে দেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে পরামর্শও চেয়েছেন রাজ্যপাল।’ তবে গতরাতেই তৃণমূলের তরফে এক প্রতিবাদ মিছিলের কথা জানিয়েছেন চন্দ্রিমা। তিনি জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকেল ৪টেয় রাজ্যপালের বিরুদ্ধে মৌলালি থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল করবে তৃণমূলের মহিলা মোর্চা।
রাজ্যপালের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ প্রসঙ্গে চন্দ্রিমা বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে এসে রাজভবনে রাত্রিবাস করবেন। তার আগে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগপত্র জমা দিতে গিয়েছেন এক মহিলা। নারী নির্যাতনের অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। এ কী ধরনের ঘটনা ঘটছে! যে রাজ্যপাল বলেন, তিনি ‘পিসরুম’ খুলে সকলের অভিযোগ শুনবেন এবং তার নিষ্পত্তি করবেন। সেই ‘পিসরুম’ কি আসলে নারী সম্মানের ‘পিস হাভেন’ হয়ে গিয়েছে? যেখানে বার বার প্রধানমন্ত্রী নারীশক্তির কথা বলছেন, সেখানে রাজ্যপাল নারীর অপমান, অসম্মান করছেন। এ কী ঘটছে বাংলার মাটিতে! যে মাটি সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক ভাবে ঐতিহ্যশালী। ছিঃ!’
চন্দ্রিমার এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছেন রাজ্যপাল। এই মন্তব্যকে অসাংবিধানিক বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। রাজ্যপাল এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, ভোটে ফায়দা তোলার জন্য এই চক্রান্ত করা হয়েছে। রাজভবনের তরফে বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে, ‘ভোটের বাজারে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের খুশি করার জন্য এবং অবৈধ, অননুমোদিত তদন্ত চালিয়ে নিয়ে যেতে ছদ্মবেশী পুলিশকে রাজভবন চত্বরে নিষিদ্ধ করছেন রাজ্যপাল।’

