পঙ্কজ মহন্ত, বালুরঘাট: উত্তরবঙ্গের পরিবহণ মানচিত্রে ‘দুয়োরানি’ বালুরঘাট (Balurghat)! দক্ষিণ দিনাজপুরের (Dakshin Dinajpur) জেলা সদরকে বঞ্চনার এই অভিযোগ নতুন নয়। অন্য জেলায় নতুন বাস চালু হলে, সেই ডিপোর পুরোনো বাস এসে পড়ে বালুরঘাটের ভাগ্যে। নতুন বাস শেষ কবে চালু হয়েছিল, মনে পড়ে না জেলাবাসীর। জরাজীর্ণ দশা ডিপোর। এই আবহে মঙ্গলবার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আসেন এনবিএসটিসি-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর দীপঙ্কর পিপলাই। তবে তারপরও বঞ্চনা থেকে মুক্তির কোনও আশা দেখতে পাচ্ছে না বালুরঘাট।
পরিদর্শন শেষে এমডি দীপঙ্কর জানান, অদূরভবিষ্যতে নতুন ডিজেলচালিত বাস পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাঁর বক্তব্য, ‘নতুন ৬৭টি সিএনজি বাস অনুমোদন করা হয়েছে নিগমের জন্য। কিন্তু বালুরঘাটে সিএনজি স্টেশন না থাকায় এখানে নতুন বাস দেওয়া যাবে না। তাই অন্য জায়গায় সিএনজি বাস দিয়ে সেখানকার বাস বালুরঘাটে আনতে হবে।’ ফলে কার্যত স্পষ্ট, আপাতত নতুন বাস জুটছে না বালুরঘাটের ভাগ্যে।
তবে বালুরঘাট ডিপোয় পুরোনো বাস বরাদ্দের অভিযোগ পুরোপুরি মানতে নারাজ দীপঙ্কর। তিনি জানান, নিগমের হাতে ২০২৩ সালে ৪৩টি নতুন বাস এসেছিল। তার কয়েকটি বালুরঘাটকে দেওয়া হয়। পরে আরও ন’টি নতুন বাস আসে। তবে সেই সময় নতুন বাস বালুরঘাটের জন্য বরাদ্দ সম্ভব হয়নি। তবে ভবিষ্যতে নতুন গাড়ি বরাদ্দ করা হবে বলে আশ্বাস দেন এনবিএসটিসি-র এমডি। দীপঙ্কর স্বীকার করেন, ‘বালুরঘাটে ঘনঘন পরিদর্শন করা হয় না। বারবার আসতে পারলে ভালো হত।’
এদিন প্রথমে তিনি বালুরঘাট এনবিএসটিসি টার্মিনাসে পৌঁছান। সেখান থেকে কোচবিহার ও কলকাতা সহ দূরপাল্লার রুটের বাস পরিষেবা সম্পর্কে খোঁজ নেন দীপঙ্কর। ১৯৫৬ সালে নির্মিত বালুরঘাটের বাস ডিপো ভবন আজও ব্যবহার করতে হচ্ছে। পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সংস্কারের প্রয়োজন চোখে পড়লেও কর্তৃপক্ষের তাগিদ চোখে পড়ে না। এদিন পরিদর্শন চলাকালীন জানানো হয়, পরিকাঠামোর আমূল বদল ঘটাতে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে নিগমের তরফে। এমনকি, কর্মীদের বেতন কাঠামো ও অন্যান্য সমস্যার সমাধান নিয়ে স্থানীয় কর্মী ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন এমডি। তাঁর মতে, সরকারের কাছে সংস্কারের আবেদন করা হয়েছে। ফান্ড পেলে কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি, জলের তীব্র সংকটের কথা স্বীকার করে দীপঙ্কর বলেন, ‘এখানে জলের সমস্যা রয়েছে। কর্মচারীরা ভুক্তভোগী। দ্রুত নতুন করে জলের ব্যবস্থা করা হবে।’ এছাড়া, টার্মিনাস ভবনের ওপরে যাত্রীনিবাস চালুর পরিকল্পনা আছে বলেও জানান দীপঙ্কর। এর ফলে, ভিনজেলা থেকে আসা মানুষ স্বল্প ব্যয়ে রাত কাটাতে পারবেন।

