সুবীর মহন্ত ও বিধান ঘোষ, বালুরঘাট ও হিলি: যার হেপাজতে বাজেয়াপ্ত সরকারি সম্পত্তি রাখা হয়েছিল, সেই ফের করেছিল চুরি। শুধু তাই নয়, ঘটনায় নিজের নাম যাতে না জড়ায় তাই থানায় মিথ্যে অভিযোগও দায়ের করে। বাজেয়াপ্ত হওয়া সোনা গায়েব করার সেই মামলায় অভিযুক্ত কাস্টমসের হিলি প্রিভেনশন ইউনিটের ইনস্পেকটর বালাদিত্য বারিকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আদালত। সোমবার মামলায় বালাদিত্যকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। মঙ্গলবার বালুরঘাট জেলা আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক (ফাস্ট কোর্ট) সন্তোষকুমার পাঠক অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেন।
ঠিক কী হয়েছিল? বিএসএফের তরফে বাজেয়াপ্ত হওয়া সাতটি সোনার বিস্কুট ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর হিলি কাস্টমস প্রিভেনশন ইউনিটে জমা দেওয়া হয়। মোট ৮১৬.৩৬০ গ্রাম ওজনের সোনার বারের সেসময় বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৪০ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকারও বেশি। ইউনিটের ইনস্পেকটর বালাদিত্য প্রক্রিয়া মেনে সোনা নিজের হেপাজতে নিয়ে নেয়। এরপর সে হাওড়ায় নিজের বাড়িতে ছুটিতে চলে যায়। ওই বছরেরই ৭ নভেম্বর হিলি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে সে জানায়, সোনাগুলি যে বাক্সে ভরে তিনি লকারে রেখে গিয়েছিলেন, সেই বাক্সটি গায়েব। দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করে হিলি থানার পুলিশ। বালাদিত্য সহ অফিসের অন্য কর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে পুলিশি তদন্তে স্পষ্ট হয়, বালাদিত্যই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। তাকে হেপাজতে নিয়ে তদন্ত চলে। দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলার পরে অবশেষে সোমবার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এদিন তার কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় বালুরঘাট আদালত।
যে এলাকাকে ঘিরে সব ঘটনার শুরু সেই হিলি বন্দরে গিয়ে এদিন দেখা গেল যে, ব্যবসা-বাণিজ্যের তেমন জোর নেই৷ ভিসাযাত্রীদেরও ভিড় নেই। বিএসএফ-বিজিবি জওয়ানরা খোশমেজাজে নজরদারি চালাচ্ছেন। শীতের শান্ত পরিবেশে হিলি স্থলবন্দর নিজের মতো রয়েছে৷ বছরতিনেক আগে বন্দরের শুল্ক দপ্তর থেকে সোনা উধাওয়ের ঘটনায় রায় ঘোষণা হওয়ায় এদিন বন্দরের বিভিন্ন মহলে কিছুটা গুঞ্জন উঠেছিল। কিন্তু বাস্তবে অবশ্য কেউ এনিয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি।
বালুরঘাট আদালতে সরকারি আইনজীবী ঋতব্রত চক্রবর্তী বলেন, ‘বিএসএফের উদ্ধার করা সোনা কাস্টমসে জমা করা হয়েছিল। সেগুলি হারিয়ে যাওয়ার মামলা দায়ের করেছিলেন ওই কাস্টমস অফিসার। তদেন্ত নেমে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল। মামলাতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।’ তদন্ত চলাকালীন ২০২৩ সালের মে মাসে পুলিশ শুল্ক দপ্তরের অস্থায়ী দুই কর্মী চন্দ্রদেব সিং এবং গৌরাঙ্গ দাসকে গ্রেপ্তার করেছিল। এদিকে বিচার বিভাগীয় তদন্তে বালাদিত্যকেও আগেই বরখাস্ত করে কাস্টমস। এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে অবৈধ এক সোনা ব্যবসায়ী পার্থ সাহাকেও পুলিশ হেপাজতে নেয়। দফায় দফায় জেরা করে বালাদিত্যের বিরুদ্ধে তথ্য পান তদন্তকারীরা। এরপর কলকাতায় থেকে হিলি থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। যদিও আদালতে বিচার চলাকালীন অস্থায়ী শুল্ক দপ্তরের দুই কর্মী ও সোনা ব্যবসায়ী মুক্তি পান। এছাড়া ২০২৪ সালে অভিযুক্ত কাস্টমস ইনস্পেকটরও জামিন পেয়েছিল৷ মামলার ২৫ মাসের মাথায় অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা হল।

