মণিশংকর ঠাকুর, তপন: শহর ও গ্রামের মানুষ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য। ঠিক তখনই ময়দানে নামে পাচারকারীরা। তাদের টার্গেট রাস্তার ধারে থাকা ষাঁড় ও গোরু। কখনও সেই পশুদের পাচার (Cattle Smuggling) করে দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশে। কখনও আবার পাচার হয়ে যাচ্ছে মালদা বা মুর্শিদাবাদে। এর পিছনে রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তপন থেকে শুরু করে দক্ষিণ দিনাজপুর (Dakshin Dinajpur) জেলার বালুরঘাট, হরিরামপুর, কুমারগঞ্জ ও গঙ্গারামপুরের মতো এলাকায় সেই চক্র সক্রিয়।
মঙ্গলবার গভীর রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তপন থানার পুলিশ অভিযান চালায়। দাঁড়ালহাট এলাকায় একটি সন্দেহজনক গাড়ি আটক করা হলে সেখান থেকে দুটি ষাঁড় ও একটি গোরু উদ্ধার করা হয়। চক্রের হদিস পেতে গাড়ির চালককে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। দক্ষিণ দিনাজপুরের একটা বড় বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেঁষা। তার মধ্যে আবার অনেকটা জায়গায় কোনও কাঁটাতারের বেড়া নেই। সেখান দিয়ে এসব ষাঁড় ও গোরু চলে যাচ্ছে বাংলাদেশে। পাশাপাশি মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে মালদা (Malda) জেলার চাঁচল, সামসী প্রভৃতি জায়গাতেও পাচার করা হয়।
দিনকে দিন এমন পাচারকারীর সংখ্যা বাড়ছে কাঁচা টাকার লোভে। টাকার অঙ্কটা কতখানি? শরীর-স্বাস্থ্য ভালো থাকলে একেকটি পশুর বাজারমূল্য পাঁচ লক্ষ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। বিশেষ বিশেষ উৎসব আসার আগে এই চক্র আরও বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। কারণ তখন টাকার পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।
কিন্তু বেওয়ারিশ গোরু বা ষাঁড় গাড়িতে তোলাটাও খুব একটা সহজ কাজ নয়। সূত্রের খবর, দুষ্কৃতীরা আগে ইনজেকশন দিয়ে পশুগুলিকে বেহুঁশ করে নেয়। তারপর গাড়িতে তোলে। কোনও একটি পশুকে টার্গেট করার পর তার গতিবিধির উপর আগে থেকেই নজরদারি চালানো হয়। এলাকা ঘুরে দেখে তবেই অপারেশনে নামে দুষ্কৃতীরা। দিনের অন্য সময় এতকিছু করতে গেলে লোকজনের নজরে পড়ে যাওয়া অবশ্যম্ভাবী। তাই তারা বেছে নেয় গভীর রাতকেই।
পুলিশের দাবি, তারা সক্রিয় রয়েছে। মঙ্গলবার যেমন এমনই একটি পাচারের পরিকল্পনা তারা ভেস্তে দিয়েছে, তেমনই এর আগেও তারা পাচারকারীদের গ্রেপ্তার করেছে। সাত-আট মাস আগে তপন ব্লকেরই একটি এলাকা থেকে একটি ষাঁড় গাড়িতে তুলে পালাচ্ছিল দুষ্কৃতীরা। পাচারের সময় হরিরামপুর থানার অন্তর্গত এলাকায় পুলিশের চেকিংয়ে পড়ে যায়। পুলিশের ধাওয়ার মুখে পড়ে তারা পশুটিকে ফেলে রেখে পালানোর চেষ্টা করেছিল। পরে পুলিশ ওই দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করে। বালুরঘাট এলাকাতেও অতীতে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। বলছে পুলিশই। মঙ্গলবারের ঘটনার পর ফের গোরু পাচার চক্রের সক্রিয়তা সামনে এল। তপন থানার পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, কোথা থেকে পশু সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং কোথায় পাচার করা হচ্ছে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

