মণিশংকর ঠাকুর, তপন: আজকাল বৈবাহিক জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে দাম্পত্যের বাইরে প্রেম করার নিদান দিচ্ছেন অনেকে। তাতে নাকি মন ভালো থাকে। এসবই চলে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের সম্মতির ওপর ভিত্তি করে। তবে দক্ষিণ দিনাজপুরের (Dakshin Dinajpur) তপনে (Tapan) ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় এত সমীকরণ কাজ করেছিল কি না, তা অবশ্য জানা যায়নি।
সেখানে এক বিবাহিত তরুণের সঙ্গে গঙ্গারামপুর (Gangarampur) ব্লকের এক বিবাহিতা বধূর পালিয়ে যাওয়া ঘিরে শুরু হয় টানাপোড়েন। শেষপর্যন্ত বিষয়টি সালিশি বৈঠকে গড়ায়, যেখানে পরিবারের সম্মতিতেই নেওয়া হয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় সাতদিন আগে তপন ব্লকের এক বিবাহিত তরুণের সঙ্গে গঙ্গারামপুর ব্লকের এক বিবাহিতা বধূ বাড়ি ছেড়ে চলে যান। ওই বধূর একটি সন্তান রয়েছে। এরপর ওই বধূর স্বামী খোঁজখবর শুরু করেন এবং পরে জানতে পারেন, তাঁর স্ত্রী তপনের তরুণের সঙ্গে পালিয়েছেন।
এখানেই ঘটনার ইতি ঘটেনি। অভিযোগ, স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে গঙ্গারামপুরের ওই স্বামীর সঙ্গে তপনের তরুণের স্ত্রীর যোগাযোগ তৈরি হয়। কথাবার্তার সূত্রে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতাও বাড়ে। এরপর মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে তাঁরাও বাড়ি ছেড়ে চলে যান। এত কম সময়ে ঘটে যাওয়া এই হৃদয়হরণ এলাকায় শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তপনের ওই তরুণেরও দুটি সন্তান রয়েছে। ফলে ঘটনায় দুই পরিবারেই নেমে এসেছে প্রবল অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ। দুই দম্পতির এই ‘এক্সচেঞ্জ ডিল’-এ কার্যত হতবাক এলাকার মানুষ।
সবচেয়ে বেশি টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও অভিভাবকত্ব নিয়ে। পরিবারগুলির দাবি, শিশুদের সুরক্ষা ও মানসিক স্থিতি বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় তপন থানায় উভয়পক্ষের পরিবারকে নিয়ে একটি সালিশি বৈঠক হয়। সেখানে দীর্ঘ আলোচনার পর পরিবারের সদস্যরাই সিদ্ধান্ত নেন, যে যাঁর সঙ্গে বর্তমানে রয়েছেন, ভবিষ্যতে তাঁর সঙ্গেই সংসার করবেন। দুইপক্ষের প্রতি সন্তানদের নিরাপত্তা, লালনপালন ও শিক্ষা সম্পর্কিত বিষয়গুলি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্তানদের স্বার্থ যাতে কোনওভাবেই বিঘ্নিত না হয় এবং তাদের মানসিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত হয়, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করা হয়েছে। প্রয়োজনে আইনি সহায়তার পথও খোলা রয়েছে বলে জানানো হয়। তবে আপাতত দুই পরিবারই পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে নতুন বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

