মণিশংকর ঠাকুর, তপন: প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই তিনফসলি কৃষিজমি ধ্বংস করে অবৈধভাবে পুকুর খননের (Illegal Pond Digging) গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে দক্ষিণ দিনাজপুরের (Dakshin Dinajpur) তপন (Tapan) ব্লকের গোফানগরে। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত স্থানীয় বাসিন্দা সন্তোষ চৌধুরী ও সুজন তরফদার। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এ ব্যাপারে তপন ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক বিপ্লবকুমার মণ্ডল বলেন, ‘অনুমতি ছাড়া কৃষিজমির চরিত্র পরিবর্তনের প্রমাণ মিললে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয় সূত্রে খবর, খতিয়ানে জমিটির শ্রেণি হিসেবে ‘দলা’ বলা রয়েছে। অর্থাৎ এটি আবাদযোগ্য নীচু জমি। অভিযোগ, এমন জমিতে আর্থমুভার নামিয়ে ব্যাপকভাবে মাটি কেটে জমির চরিত্র বদলে ফেলা হয়েছে। যা সরাসরি কৃষিজমি সংরক্ষণ আইন ও ভূমি সংস্কার বিধির চরম লঙ্ঘন। যে জমিতে সারাবছর ধান ও অন্যান্য ফসল উৎপাদন হত, সেই জমি গভীর গর্তে পরিণত হয়েছে।
এর ফলে আশপাশের কৃষিজমিতে জল ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা আগামীদিনে বড়সড়ো ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন কৃষকরা। অভিযোগ, সেখানে দুটি পুকুর খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি পুকুরের কিছু অংশ দেবত্র সম্পত্তি (মন্দির বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে নথিভুক্ত জমি)। যদি এই অভিযোগ সত্য হয়, তবে বিষয়টি আরও গুরুতর আকার নিতে পারে, কারণ দেবত্র সম্পত্তিতে কোনও ধরনের খনন বা জমির চরিত্র পরিবর্তন আইনত নিষিদ্ধ।
গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, শনি, রবি ও সোমবার স্বামী বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটির সুযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে সেখানে মাটি কাটার কাজ চলেছে। প্রশ্ন উঠছে, কার মদতে ধ্বংস করা হল তিনফসলি জমি? যদিও সোমবার দুপুর প্রায় ১টার সময় পুকুর খনন বন্ধ হয়ে যায়। অভিযুক্ত সুজন তরফদারের দাবি, ‘সেখানে কোনও পুকুর খননের বিষয় নেই। এলাকায় রাস্তা উঁচু করার জন্যই জমি থেকে মাটি নেওয়া হয়েছে।’
তবে স্থানীয় এক বাসিন্দার পালটা বক্তব্য, ‘রাস্তা উঁচু করার অজুহাতে তিনফসলি জমি কেটে গভীর গর্ত তৈরি করা কখনোই বৈধ হতে পারে না। উপরন্তু, ওই কাজের জন্য কোনও লিখিত অনুমতি বা সরকারি নথি নেই।’
অতিরিক্ত ট্র্যাক্টর ও ভারী যান চলাচলের ফলে রাস্তায় ধুলো ও কাদা জমে সাধারণ মানুষের চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে। গোফানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা তথা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি চিন্তামণি বিহা জানান, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে তিনি বিয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

