সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট: স্ট্যাটিউট অনুমোদন পেতে এবার জোট বাঁধছে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি। প্রায় সাত বছর আগে ঘোষণা হলেও রাজ্যের নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলি স্ট্যাটিউট অনুমোদন পায়নি এখনও। ফাইল আটকে রয়েছে রাজ্যপাল তথা আচার্যের কাছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা একযোগে উচ্চশিক্ষা দপ্তরে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সোমবার কলকাতার ভাষাবিজ্ঞানকেন্দ্রের একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়েছিলেন রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা। ওই সভার ফাঁকেই উপাচার্যরা স্ট্যাটিউট পেতে আন্দোলনের পরিকল্পনা করেন। অন্যদিকে, সুযোগ পাওয়ায় দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Dakshin Dinajpur University) পরিকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর দ্বারস্থ হন উপাচার্য প্রণব ঘোষ। বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত সমস্ত কথা তিনি শীঘ্রই শুনবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।
দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন মেলে ২০১৮ সালে। একই সময়ে রাজ্যে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠে। অভিযোগ, অনুমোদনের সাত বছর পরেও এখনও একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তেমন কোনও গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়নি। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্ট্যাটিউটই অনুমোদন হয়নি। এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে সমস্যার পাহাড় তৈরি হয়েছে। স্ট্যাটিউট হল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইনকানুন। যা তৈরি না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিয়মকানুন থাকে না। যা গঠনের পর বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য এগজিকিউটিভ কাউন্সিল তৈরি হয়। তা না থাকায় অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। স্নাতকোত্তর বিভিন্ন বিষয় দেখার জন্য বোর্ড অফ স্টাডিজ তৈরি হয়। বোর্ড অফ স্টাডিজকে নিয়ন্ত্রণ করে ফ্যাকাল্টি কাউন্সিল (অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল)। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্ট্যাটিউট না থাকায় কর্মী নিয়োগের জন্য পদই তৈরি করা যায়নি। উপাচার্য ছাড়া এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে কোনও স্থায়ী অধ্যাপক, কর্মী এখনও নেই। অতীতে আলাদাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি রাজ্য শিক্ষা দপ্তরে বারবার চিঠি দিলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। যে কারণে এবার একযোগে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত। তাৎপর্যপূর্ণভাবে নতুন তৈরি হওয়া রানি রাসমণি ও সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয় স্ট্যাটিউট পেলেও, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, মহাত্মা গান্ধি, ঝাড়গ্রাম, দক্ষিণ দিনাজপুরের মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলি পায়নি স্ট্যাটিউটের অনুমোদন।
দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডঃ প্রণব ঘোষ বলেন, ‘সোমবার কলকাতায় ভাষাবিজ্ঞানকেন্দ্রে ভাষামেলায় আমরা আমন্ত্রিত ছিলাম। স্ট্যাটিউট নিয়ে সকলে আলোচনা করেছি। ডঃ ওমপ্রকাশ মিশ্রের পরামর্শে আমরা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা একযোগে উচ্চশিক্ষা দপ্তরে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ দার্জিলিং হিলস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডঃ তেজিমালা গুরুং বলেন, ‘স্ট্যাটিউটের অনুমোদন না পাওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতেই একযোগে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত।’

