রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : ’২৬-এর ভোটের আগে পাহাড়ে আঞ্চলিক দলগুলিকে নিয়ে ভাবতে হচ্ছে বিজেপিকে। ইতিমধ্যেই ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্সে (এনডিএ) থাকা পাহাড়ের দলগুলি নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য দলীয় প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যত পাকা করে ফেলেছে। আর এতেই চাপ বাড়ছে বিজেপির। বিজেপিও আঞ্চলিক দলগুলির ইস্যু অস্বীকার করছে না। দলের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র তথা দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ট বলছেন, ‘এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। শরিকদলগুলির সঙ্গে আলোচনা করেই আমরা প্রার্থী দেওয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
২০০৯ সাল থেকে জিএনএলএফ, সিপিআরএম, গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার মতো পাহাড়ের রাজনৈতিক দলগুলি বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটে রয়েছে। ২০১১ এবং ২০১৬ সালে বিজেপি পাহাড়ে মোর্চাকে সমর্থন করেছিল। তবে, ২০১৯ সাল থেকে বিজেপি দলীয় প্রতীকেই ভোটে লড়ছে। ২০১৯ দার্জিলিং বিধানসভার উপনির্বাচন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে প্রার্থী দিয়েছে বিজেপি। এমনকি প্রতিটি লোকসভা ভোট, জিটিএ’র নির্বাচন এবং পঞ্চায়েত ভোটেও বিজেপির প্রতীক ছিল। বিজেপির দার্জিলিং পার্বত্য শাখার সভাপতি সঞ্জীব লামার সংক্ষিপ্ত বক্তব্য, ‘এখানকার তিনটি আসনের জন্য পৃথক রণনীতি তৈরি হচ্ছে।’
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস লোকসভা ভোটে দলীয় প্রতীকে প্রার্থী দিলেও বিধানসভা ভোটে জোট শরিককেই পাহাড়ের তিনটি আসন বরাবর ছেড়ে দিয়েছে। এবারও পাহাড়ে অনীত থাপার ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চাকেই (বিজিপিএম) তৃণমূল সমর্থন করছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বিজেপির জোট শরিকরাও একই দাবিতে সরব হয়েছে।
দীর্ঘদিন নির্বাচনে প্রার্থী না দিয়ে নির্বাচন কমিশনের রেজিস্ট্রেশন হারিয়েছে একদা পাহাড়ের দাপুটে রাজনৈতিক দল জিএনএলএফ। একই পথের পথিক হতে যাচ্ছে মোর্চা, সিপিআরএমের মতো রাজনৈতিক দলগুলিও। কেননা নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলিকে নিয়মিত বিভিন্ন নির্বাচনে সরাসরি অংশ নিতে হয়। নতুবা তাদের স্বীকৃতি বাতিল হয়ে যায়।
আর তাই এবার বিধানসভা নির্বাচনে পুনরায় আঞ্চলিক পার্টিগুলি প্রার্থী দেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে। বিমল গুরুংয়ের মোর্চা কালিম্পং থেকে প্রার্থী দিতে চাইছে। জিএনএলএফ দার্জিলিং এবং কার্সিয়াং আসনের দাবিদার। ইতিমধ্যেই এই রাজনৈতিক দলগুলি দার্জিলিংয়ের সাংসদের মাধ্যমে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তাদের দাবি জানিয়ে দিয়েছে। শনিবার দার্জিলিংয়ে জিএনএলএফের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে ফের চর্চা হয়েছে।
জিএনএলএফের সাধারণ সম্পাদক তথা বিজেপির প্রতীকে দার্জিলিংয়ে দু’বারের বিধায়ক নীরজ জিম্বার বক্তব্য, ‘আঞ্চলিক দলগুলিকে টিকে থাকতে হলে নির্বাচনে লড়তে হবে। আমরা বিজেপির সঙ্গে জোটে রয়েছি। সমস্তটাই বিজেপির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি বলছেন, ‘বিধানসভা ভোটে আঞ্চলিক দলগুলিকে এবার বিজেপি সমর্থন করুক।’

