রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি: পাকদণ্ডি পথে যানজটের নাগপাশ নিত্যদিনের। সমস্যায় পর্যটকদের (Tourists) পাশাপাশি চালকরা। প্রশাসনের (Administration) তরফে বিকল্প ব্যবস্থার আশ্বাস বারবার মিললেও, তা বাস্তবের মুখ দেখে না। এমন পরিস্থিতিতে দার্জিলিংয়ের (Darjeeling) যানজট সমস্যা মেটানোর কাজ শুরু করার জন্য প্রশাসনকে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিলেন পরিবহণ চালকরা। তাঁদের বক্তব্য, পাহাড়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে যানজট সমস্যা দিন-দিন বাড়ছে। বহু বছর ধরে প্রশাসনকে এই বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপের জন্য দাবি জানিয়েও কোনও লাভ হচ্ছে না। শীত শেষেই পর্যটন মরশুম। তার আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে পর্যটকরা এবারও হয়রানির শিকার হবেন। পাহাড়ের পর্যটন নিয়ে দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাবে। ফলে তাঁরা যানজট সমস্যার জেরে এখানে আসাই বন্ধ করে দেবেন। ১০ দিনের মধ্যে প্রশাসন যানজট সমস্যা মেটাতে পদক্ষেপ শুরু না করলে ধারাবাহিক আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পরিবহণ চালকরা। দার্জিলিং পুলিশ জানিয়েছে, যানজট সমস্যা মেটানো নিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ করা হচ্ছে। রাস্তায় যেখানে-সেখানে যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখলে জরিমানা করা হচ্ছে। গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (জিটিএ) জনসংযোগ আধিকারিক শক্তিপ্রসাদ শর্মা বলেছেন, ‘যানজট সমস্যা মেটানোর চেষ্টা চলছে। একটা দীর্ঘমেয়াদি এবং একটা স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে। এতে পরিবহণ চালকদেরও ভূমিকা রয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘুম থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত রাস্তায় কিছুটা অংশ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখলে পুলিশ জরিমানা করছে। আশা করছি দ্রুত সমস্যা মিটবে।’
পর্যটন মরশুমে দার্জিলিং যাতায়াতের ক্ষেত্রে যানজট সমস্যা বেশ কয়েক বছর ধরেই ভাবাচ্ছে। পর্যটক থেকে সাধারণ মানুষ, অফিস যাত্রী প্রত্যেকেই এই যানজটের জেরে নাকাল। দার্জিলিং যাওয়ার সময় সোনাদা পেরোনোর পর থেকেই যানবাহনের গতি কমতে শুরু করে। ঘুম জোড়বাংলো ঢোকার আগে থেকে গাড়ির লম্বা লাইন চোখে পড়ে। সেখান থেকে দার্জিলিং শহরে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টাও সময় লেগে যায়। বিশেষ করে পর্যটন মরশুমগুলিতে এই ভোগান্তি চরমে ওঠে। পরিবহণ চালকদের বক্তব্য, এই যানজটে আটকে প্রচুর পর্যটক অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এই ভোগান্তির জন্য তাঁরা আর দার্জিলিংয়ে আসবেন না, স্পষ্ট করে দেন অনেক সময়। তাঁদের অভিযোগ, বহু বছর ধরে এই সমস্যা চললেও জিটিএ যানজট সমস্যা মেটাতে কোনও উদ্যোগ নেয়নি।


বৃহস্পতিবার হিমালয়ান ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেশন কমিটির সভাপতি পাশাং শেরপা বলেন, ‘পাহাড়ে যানজট সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। পর্যটন মরশুমে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পৌছাতে ছয়-সাত ঘণ্টাও লেগে যাচ্ছে। এর ফলে পর্যটক থেকে সাধারণ মানুষ সবাই ভোগান্তির শিকার। পর্যটকরা অসন্তুষ্ট হচ্ছেন।’ তাঁর বক্তব্য, ‘এই সমস্যা মেটাতে ২০১২ সাল থেকে প্রশাসনকে দার্জিলিংয়ের রাস্তা চওড়া করা, ঘুম, ডালি সহ দার্জিলিং শহরের বিভিন্ন জায়গায় পর্যাপ্ত পার্কিং জোন তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। রাজ্য সরকার এবং জিটিএ মিলিয়ে প্রশাসনের কাছে অন্তত ৫০-৬০টি চিঠি সংগঠনের তরফে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার পরেও কোনও পদক্ষেপ এখনও হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আন্দোলনের পথে হাঁটতে হচ্ছে।’
কীভাবে হবে আন্দোলন? হিমালয়ান ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেশন কমিটির সভাপতির বক্তব্য, ‘আমাদের কোঅর্ডিনেশন কমিটির অধীনে ৪৫টিরও বেশি চালক সংগঠন রয়েছে। সবাই মিলে ২০ তারিখের পরে বৈঠক করে আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করা হবে। তবে, পর্যটক ও সাধারণ মানুষের সমস্যা হয় এমন কোনও আন্দোলন হবে না।’

