রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি: বিশ্বজোড়া খ্যাতি। ইউনেসকোর হেরিটেজ তকমাও রয়েছে মুকুটে। তবুও টয়ট্রেনকে (Toy Train) ঘিরে পর্যটকদের আগ্রহ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইচআর) (DHR)। টয়ট্রেনের ইতিহাসে প্রথমবার সাউথ ইস্ট এশিয়া ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম এক্সচেঞ্জে (সাটে) নিজস্ব স্টল দিচ্ছে ডিএইচআর। মূলত বিদেশের পর্যটকদের কাছে পাহাড়ের এই ঐতিহ্য টয়ট্রেনকে আরও বেশি করে তুলে ধরতেই এই অভিনব উদ্যোগ বলে ডিএইচআর সূত্রে জানা গিয়েছে। এতদিন পর্যটনের প্রচারে টয়ট্রেনকে বিভিন্ন মঞ্চে দেখা গেলেও, আন্তর্জাতিক মানের এমন বড় কোনও ট্যুরিজম এক্সচেঞ্জে সরাসরি স্টল দেওয়ার ঘটনা এই প্রথম। ডিএইচআর কর্তৃপক্ষের মতে, সাউথ ইস্ট এশিয়া ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম এক্সচেঞ্জ হল পর্যটনশিল্পের অন্যতম বড় একটি প্ল্যাটফর্ম। এখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ট্যুর অপারেটর এবং ভ্রমণপিপাসু মানুষের সমাগম হয়। সেই সুযোগকেই কাজে লাগাতে চাইছে ডিএইচআর। ডিএইচআর ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরীর বক্তব্য, ‘আমাদের লক্ষ্য একটাই, বাইরের দেশের পর্যটকদের ডিএইচআর সম্পর্কে আরও আগ্রহী করে তোলা। আমরা চাই দার্জিলিং ভ্রমণে এসে টয়ট্রেনের অভিজ্ঞতা যেন কেউ মিস না করেন। তাই সাটে-তে স্টল দেওয়ার আলোচনা চলছে। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গেলে সকলকে জানানো হবে।’
এই স্টলের মাধ্যমে টয়ট্রেনের রুট, জয়রাইড, জাঙ্গল টি সাফারি এবং রেড পান্ডা স্পেশাল-এর মতো বিভিন্ন পরিষেবার খুঁটিনাটি তথ্য তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি, টয়ট্রেনের দীর্ঘ ইতিহাস এবং পাহাড়ের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্কের কথাও প্রচার করা হবে। পাহাড়ের স্থানীয় সংস্কৃতিও স্টলে থাকবে বলে ডিএইচআর কর্তারা জানিয়েছেন। পর্যটন মহলের মতে, ডিএইচআর-এর এই সিদ্ধান্ত উত্তরবঙ্গের পর্যটনশিল্পে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। বিদেশের মাটিতে টয়ট্রেনের এই ব্র্যান্ডিং আখেরে পাহাড়ের অর্থনীতিকেই চাঙ্গা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। পর্যটন ব্যবসায়ী সম্রাট সান্যালের বক্তব্য, ‘এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। এটা খুবই পজিটিভ দিক যে, ডিএইচআরের নিজস্ব একটি স্টল সাটে-তে থাকবে। এতে অনেক বেশি পর্যটক ডিএইচআর সম্পর্কে জানতে পারবেন। কারণ, এই ট্যুরিজম এক্সচেঞ্জে বিদেশ থেকেও অনেকেই আসেন। আমাদের এই চত্বরে অর্থনীতিতেও এর ভালো প্রভাব পড়বে।’



