উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: স্বামীর মৃত্যুর পর দুই দেওরের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে চেয়েছিলেন বিধবা গৃহবধূ। কিন্তু সেই পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়ান শাশুড়ি। শেষপর্যন্ত ‘পথের কাঁটা’ সেই শাশুড়িকেই খুনের (Murder) স্বামীর মৃত্যুর পর ২ দেওরের সঙ্গে সম্পর্ক! সম্পত্তি হাতাতে শ্বাশুড়িকে খুনে অভিযুক্ত বধূ অভিযোগ উঠেছে গৃহবধূর বিরুদ্ধে। গত ২৪ জুন সকালে ঝাঁসির (Jhansi) কুমহারিয়া গ্রামের বাড়ি থেকে ৫৪ বছরের সুশীলা দেবীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ খুনের অভিযোগে তাঁর ছোট পুত্রবধূ পূজা, পূজার বোন কমলা ও কমলার প্রেমিক অনিল ভার্মাকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ সুপার (শহর) জ্ঞানেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় পূজা, তার বোন এবং বোনের প্রেমিক অনিল ভার্মার সহায়তায় হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করার কথা স্বীকার করেছেন। অনিল ভার্মা হত্যার পরপরই গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং চুরি যাওয়া সোনা ও অলঙ্কার বিক্রির চেষ্টা করতেই তাঁর খোঁজ পায় পুলিশ। গ্রেপ্তারি এড়াতে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিও চালায় অনিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুলিশ তাকে হেপাজতে নিয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, স্বামীর মৃত্যুর পর পূজা তার দেওর কল্যাণ সিংয়ের সাথে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিল। কিছুদিন আগে কল্যাণেরও মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর, পূজাকে তার শ্বশুর অজয় সিং এবং আরেক দেওর সন্তোষ মিলে কুমহারিয়ায় তাদের পৈতৃক বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে, সন্তোষের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন পূজা। সন্তোষ ও পূজার এক কন্যাসন্তানও হয়। এরপরই সন্তোষের স্ত্রী রাগিনী স্বামীর অবৈধ সম্পর্কের বিরোধীতা করে বাপের বাড়িতে চলে যান। এরপরই পরিবারের কর্তৃত্ব চলে আসে কার্যত পূজার হাতে। পরিবারের মালিকানাধীন ১৬ বিঘা কৃষিজমি বিক্রি করে গোয়ালিয়র চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন পূজা। আর সেই সিদ্ধান্তই মেনে নিতে পারেননি তার শাশুড়ি সুশীলা দেবী। এরপরই শাশুড়িকে খুনের ছক কষেন পূজা। খুনের পর শ্বশুরবাড়ি থেকে ৮ লক্ষ টাকার গয়না লুট করেন পুজা। অভিযোগ একটি মোটর বাইক ও একটি দেশি পিস্তলও খোয়া যায় সেই সময়। এই গয়নাই পরে পূজার বোন কমলার প্রেমিক অনিল ভার্মার হেপাজত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।



