পঙ্কজ মহন্ত, বালুরঘাট: ‘হ্যালো, থানা থেকে বলছি।’ ফোনে এ’কথা কোনও পুলিশ আধিকারিকের নয়, জামিনে মুক্ত এক অভিযুক্তের। পকসো(POCSO) মামলায় অভিযুক্ত সেই যুবকের অত্যাচারে নাজেহাল অবস্থা দক্ষিণ দিনাজপুর শিশু সুরক্ষা কমিটির(Child Welfare Committee)। বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে কমিটির সদস্যদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে বলে অভিযোগ। এমনকি সিডব্লিউসি চেয়ারপার্সনকে প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দিয়েছে বংশীহারীর ওই বাসিন্দা। আতঙ্কিত হয়ে বালুরঘাট(Balurghat) থানার দারস্থ হয়েছেন সিডব্লিউসির চেয়ারপার্সন মন্দিরা রায়। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে বালুরঘাট জেলা আদালতে পাঠিয়েছে বালুরঘাট থানার পুলিশ।
গত বছর বংশীহারী এলাকায় ধ্রুব সরকার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু হয়। সেই ঘটনায় নাবালিকাকে উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে শিশু সুরক্ষা কমিটি। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মামলা চলেছে। পরে জামিনে ছাড়া পেয়ে কমিটির সব সদস্যদের ফোন নম্বর জোগাড় করে অভিযুক্ত। দু’মাস ধরে কমিটির ছয় সদস্যকে ফোন করে সে অনবরত হুমকি দিয়ে চলেছে। একটি নম্বর ব্লক করা হলেও একাধিক নম্বর থেকে সে ফোন ও মেসেজ করে যাচ্ছিল। প্রথম পর্যায়ে বিষয়টিতে তেমন আমল দেননি সদস্যরা। একাধিক নম্বর তাঁরা ব্লক করে দেন। এবার খুনের হুমকি দিয়ে ফোন শুরু করে অভিযুক্ত। সিডব্লিউসি’র এক সদস্যের বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নাবালিকাকে মুক্ত করার দাবি জানায় অভিযুক্ত। সিডব্লিউসি চেয়ারম্যানকে ফোন করে ‘তুই’ সম্বোধন করে অসম্মানজনক কথা বলে সে। প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দেয়। নতুন নম্বর থেকে এক সদস্যকে ফোন করে বলে, ‘আমি তপন থানা থেকে বলছি। সিডব্লিউসি চেয়ারপার্সনের ঠিকানা দিন।’ এরপরই অভিযুক্ত সটান চলে যায় চেয়ারপার্সনের বাড়িতে। আতঙ্কিত হয়ে চেয়ারপার্সন মন্দিরা রায় বৃহস্পতিবার বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বালুরঘাট থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ামাত্র বংশীহারী থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার তাকে বালুরঘাট জেলা আদালতে পেশ করা হয়েছে।
মন্দিরাদেবী জানান, ‘ফোন করে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছিল। একসময় ঠিকানা জোগাড় করে আমার বাড়িও পৌঁছে যায়। নিরাপত্তার অভাব বোধ করছিলাম। পকসো কেসের আসামি কতটা নৃশংস হতে পারে আমরা জানি। তাই ঝুঁকি না নিয়ে থানায় অভিযোগ করেছি।’

