উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রাজধানীর (Delhi) বিবেক বিহারের (Vivek Vihar) বহুতলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। আধুনিক প্রযুক্তির যে ‘স্মার্ট লক’ (smart locks) বাড়িকে সুরক্ষিত রাখতে ব্যবহার করা হয়, চরম বিপদের মুহূর্তে সেই প্রযুক্তিই ঘাতক হয়ে দাঁড়াল ৯ জন বাসিন্দার জন্য। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ফলে ফ্ল্যাটের স্মার্ট ডোর লকগুলি বিকল হয়ে পড়েছিল, যা বাসিন্দাদের বাইরে বেরনোর পথ রুদ্ধ করে দেয়।
বিবেক বিহারের ওই চারতলা বহুতলের প্রতিটি তলায় দুটি করে ফ্ল্যাট ছিল। রবিবার সকালে যখন দোতলায় আগুন লাগে, মুহূর্তের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, ফ্ল্যাটগুলোতে ওটিপি বা আঙুলের ছাপে চালিত অত্যাধুনিক স্মার্ট লক লাগানো ছিল। বিদ্যুৎ না থাকায় এবং যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে সেই লকগুলি জ্যাম হয়ে যায়। বাসিন্দারা ভেতর থেকে দরজা খোলার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও তা খুলতে ব্যর্থ হন। প্রযুক্তির এই চরম ব্যর্থতা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।


তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, বহুতলের নকশাতেও ছিল একাধিক ত্রুটি। পেছনের দিকের ফ্ল্যাটগুলির ব্যালকনি পুরোটাই লোহার গ্রিল দিয়ে শক্ত করে আটকানো ছিল। যাঁরা ঘর থেকে বেরিয়ে ব্যালকনিতে পৌঁছাতে পেরেছিলেন, তাঁরাও গ্রিলের কারণে বাইরে ঝাঁপ দিতে বা সাহায্য চাইতে পারেননি। মূলত ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়েই অধিকাংশ মৃত্যু হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
ওটিপি বা বায়োমেট্রিক চালিত তালাগুলো চোর-ডাকাতের হাত থেকে সুরক্ষা দিলেও, অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি অবস্থায় এগুলি কতটা কার্যকর? বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে উচ্চতাপে এই সেন্সরগুলো কাজ করা বন্ধ করে দেয়। বিবেক বিহারের ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে, যান্ত্রিক নিরাপত্তার পাশাপাশি জরুরি অবস্থায় ম্যানুয়াল বা বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা কতটা অপরিহার্য।
দিল্লি পুলিশ বহুতলের নকশা এবং অগ্নি-নির্বাপক ব্যবস্থার গাফিলতি নিয়ে মামলা দায়ের করেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনা এখন আধুনিক আবাসনগুলির নিরাপত্তা পরিকাঠামো নিয়ে নতুন করে ভাবাতে শুরু করেছে।

