শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা: উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগের উন্নয়নের বিষয়ে রেলমন্ত্রককে একাধিক প্রস্তাব দিলেন সাংসদ ডাঃ জয়ন্ত রায়। জলপাইগুড়ির এই সাংসদ শিয়ালদা-আলিপুরদুয়ারগামী কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসে আরও ৩-৪টি এসি কোচ ও হলদিবাড়ি-কলকাতা সুপারফাস্ট ট্রেনে দুটি স্লিপার কোচের যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এগুলির পাশাপাশি গুয়াহাটি কিংবা নিউ কোচবিহার থেকে মুম্বই পর্যন্ত সরাসরি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস চালানোর দাবি এবং ময়নাগুড়ি, জলপাইগুড়ি রোডে তার স্টপ দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। সাংসদ এনজেপি থেকে হরিদ্বার পর্যন্ত সুপারফাস্ট ট্রেন চালানোর দাবির পাশাপাশি, ভিস্টাডোম ট্যুরিস্ট স্পেশালকে সপ্তাহে ৩ দিন ডুয়ার্স রুট দিয়ে ও বাকি চারদিন লাটাগুড়ি হয়ে নিউ কোচবিহার পর্যন্ত যাতায়াতের আর্জি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সাংসদ বলেন, রেলমন্ত্রী, রেলের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি আলিপুরদুয়ার ও কাটিহার ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারদের সঙ্গে কথা বলেছি। দ্রুত কয়েকটি দাবি পূরণ হবে।’
সাংসদ সম্প্রতি রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণোর সঙ্গে জলপাইগুড়ির সংসদীয় এলাকা সহ আশপাশের রেল পরিষেবা নিয়ে কথা বলেছেন। গত সোমবার তিনি কলকাতায় পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেওসকার সঙ্গেও দেখা করেন। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার ও সাংসদের আলোচনায় উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের জোনাল রেলওয়ে ইউজার্স কনসালটেটিভ কমিটির সদস্য পার্থ রায় উপস্থিত ছিলেন। পার্থ বলেন, ‘বিভিন্ন উৎসবের সময় যে সমস্ত যাত্রীবাহী স্পেশাল ট্রেন চলে সেগুলির মধ্যে কলকাতাগামী কোনও একটি ট্রেনকে স্থায়ীভাবে চালানোর কথাও সাংসদ জেনারেল ম্যানেজারকে বলেছেন। পুজোর পর রেলের আধিকারিকদের সঙ্গে আরও একটি বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।’
সাংসদ জানিয়েছেন, কাটিহার ডিভিশনের ডিআরএমকে দ্রুত এনজেপি স্টেশনের আগে ঠাকুরনগরে ফ্লাইওভার তৈরি শেষ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের ডিআরএমকে অমৃত ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে যে সমস্ত স্টেশন আধুনিকীকরণ চলছে সেগুলিও দ্রুত শেষ হয় যাতে তা দেখতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট নানা মহলের ধারণা শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, নিউ কোচবিহার, আলিপুরদুয়ারকে কেন্দ্র করে যে সমস্ত নয়া রেল পরিষেবার কথা সাংসদ তুলে ধরেছেন সেগুলি বাস্তবায়িত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় অত্যন্ত ইতিবাচক বদল আসবে। উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলিতে প্রায়শই টিকিটের আকাল দেখা যায়। পর্যটকদের কাছে কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসের চাহিদা থাকে প্রচুর। ওই ট্রেনে উপযুক্ত পরিকাঠামো তৈরি করে অতিরিক্ত কয়েকটি এসি কোচ যুক্ত করলে টিকিটের হাহাকার কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া মুম্বই পর্যন্ত সরাসরি একটি ট্রেন চালু হলে সেখানে চিকিৎসা করাতে যাওয়া রোগীদের অনেক সুবিধা হবে।

