Ratua | গঙ্গায় ভাঙন, ফুঁসছে কোশীও, ভিটেমাটি হারিয়ে নতুন ঠিকানার খোঁজে বিধ্বস্তরা

শেষ আপডেট:

শেখ পান্না, রতুয়া: কেউ নতুন ঠিকানায় মাথা গুঁজতে পুরানো বাড়ি ভাঙছেন। অনেকে আবার ঘরের সমস্ত জিনিস এক জায়গায় রেখে নতুন নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছেন। নদীপাড়ের এমন ছবি নতুন নয়। কিন্তু সেচ দপ্তরের তৎপরতা কেন শুধু বর্ষার সময়, কেন শুখা মরশুমে ভাঙন রোধে কোনও কাজ করা হয় না, সেই প্রশ্ন নতুন করে উঠছে মালদার রতুয়া ১ নম্বর ব্লকের (Ratua) মহানন্দটোলা ও বিলাইমারিতে। আগেই নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়েছে হাজার হাজার পরিবার। কোশী ফুঁসতে শুরু করায় ভিটেমাটি হারানোর মুখে শ্রীকান্তটোলা, মুলিরামটোলা খাসমহল, খাকচাবোনা, পশ্চিম রতনপুর গ্রামের কয়েকশো পরিবার। রাজনৈতিক স্বার্থে শুরু হয়েছে শাসক-বিরোধী তরজাও।

টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ফুঁসছে গঙ্গা এবং ফুলহর। শুরু হয়েছে দুটি নদীর পাড়ের ভাঙন। এরই মধ্যে রতুয়া ১ নম্বর ব্লকের মহানন্দটোলা ও বিলাইমারি অঞ্চলের খাসমহল এলাকায় গঙ্গার জলে পুষ্ট হয়ে ত্রাস হয়ে উঠছে কোশী। শুরু করে দিয়েছে ধ্বংসলীলা। যেন গিলে খেতে চাইছে নদীতীরবর্তী গ্রামের পর গ্রাম। ভাঙন আতঙ্কে শেষ সম্বলটুকু বাঁচাতে বাড়িঘর ভেঙে, জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে নদীপাড়ের বাসিন্দারা। মহানন্দটোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্রীকান্তটোলা, মুলিরামটোলা গ্রামের মানুষের চোখের সামনে তলিয়ে যাচ্ছে নদীতীরবর্তী ভিটেমাটি। জরুরিকালীন পরিস্থিতিতে বস্তায় বালি ভরে নদীর পাড় রক্ষার চেষ্টায় সেচ দপ্তর। তবে সরকারি টাকা শুধু জলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন ভাঙনে বিধ্বস্ত মানুষ। শুখা মরশুমে কাজ হলে এমন বিপদ দুয়ারে পৌঁছে যেত না বলে দাবি তাঁদের। ভাঙনকবলিতদের অভিযোগ, বিধায়ক ও সাংসদরা শুধু ভাঙন পরিদর্শন করেন। কাজের কাজ কিছুই হয় না।

রতুয়ার বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়ের নির্দেশে ব্লক তৃণমূল সভাপতি অজয় সিনহার নেতৃত্বে এদিন তৃণমূলের একটি প্রতিনিধিদল ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে। নেতাদের সামনে দুঃখদুর্দশার কথা তুলে ধরেন ভাঙন বিধ্বস্ত মানুষ। এমন পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপি এবং উত্তর মালদার সাংসদ খগেন মুর্মুকে দায়ী করেছেন অজয়। তাঁর অভিযোগ, ‘ভাঙন নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কিছুই ভাবছে না। বাংলার মানুষের সঙ্গে বঞ্চনা করছে কেন্দ্র। এলাকার সাংসদ মানুষের এমন দুর্দশাতেও এলাকায় আসেন না।’ পালটা তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে বিজেপি। জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অম্লান ভাদুড়ি বলেন, ‘রতুয়া সহ রাজ্যে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করে রাজ্যের সেচ দপ্তর। বর্ষা এলেই ভাঙন রোধের কাজ করে রাজ্য সরকার। রাজ্য ছাড়পত্র দিলেই কেন্দ্রীয় সরকার ভাঙন রোধের কাজ করবে।’

Categories
Shahini Bhadra
Shahini Bhadrahttps://uttarbangasambad.com/
Shahini Bhadra is working as Trainee Sub Editor. Presently she is attached with Uttarbanga Sambad Online. Shahini is involved in Copy Editing, Uploading in website.

Share post:

Popular

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

More like this
Related

Old Malda | বদলের বাংলায় বড় অ্যাকশন! পুরাতন মালদায় ২ বছর আগে ভরাট হওয়া পুকুর উদ্ধার করল ভূমি দপ্তর

পুরাতন মালদা: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরই বেআইনি কাজ ও...