উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক : মহারাষ্ট্র নাটকের যবনিকা পতন। অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। মুম্বইয়ের আজাদ ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে শপথ বাক্য পাঠ করান মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল সিপি রাধাকৃষ্ণন। এই নিয়ে তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হলেন ফড়নবিশ।
উপমুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন দু’জন। শিবসেনা নেতা একনাথ শিন্ডে ও এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ার। যদিও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শিন্ডেকে নিয়ে টানাপোড়েন চলেছে। দেবেন্দ্র ফড়নবিশের উদ্যোগে শেষ পর্যন্ত উপমুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ নিতে রাজি হয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিন্ডে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠকে প্রাক্তন মন্ত্রী তথা শিন্ডেসেনার সদ্যনির্বাচিত বিধায়ক উদয় সাবন্ত বলেন, ‘ফড়নবিশ আমাদের নেতা শিন্ডেজিকে তাঁর সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী হতে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তিনি আমন্ত্রণ স্বীকার করেছেন।’ এদিন শিন্ডেকে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ গ্রহণে চাপ সৃষ্টি করেন শিবসেনার বিধায়করাই। বিধায়করা জানিয়ে দেন তিনি উপমুখ্যমন্ত্রী না হলে কেউই মন্ত্রী হবেন না।
মহারাষ্ট্রের ২৮৮টি বিধানসভা আসনের মধ্যে নির্বাচনে ক্ষমতাসীন জোটের তিন দল— বিজেপি, শিন্ডেসেনা এবং এনসিপি(অজিত) যথাক্রমে ১৩২, ৫৭ এবং ৪১টি আসনে জয়লাভ করে। ভোটে অনায়াস জয় হলেও মুখ্যমন্ত্রী বাছাই ঘিরে জটিলতা সৃষ্টি হয় মহায্যুতি জোটের অন্দরে। প্রাথমিকভাবে বিজেপিকে মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়তে রাজি ছিলেন না শিন্ডে। সেনা শিবিরের যুক্তি ছিল বিহারে যেমন নীতিশ কুমার কম আসনে জিতেও মুখ্যমন্ত্রী পদে রয়েছেন সেভাবেই শিন্ডেকেও রেখে দেওয়া হোক।
শিন্ডের নেতৃত্বেই জোটের জয় এসেছে বলেও যুক্তি সাজায় শিন্ডে শিবির। যদিও বিজেপি প্রথম থেকেই মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিতে অনড় ছিল। দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শায়ের বাড়িতে তিন শিবিরের নেতাদের বৈঠকও হয়। বৈঠকের পরও জট পুরোপুরি কাটেনি। মুখ্যমন্ত্রী জট কাটলেও দপ্তর বণ্টন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। সূত্রের খবর, শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হয় বিজেপি ও শিবসেনার শিন্ডে গোষ্ঠীর মধ্যে।

