উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রোহিত শর্মা থেকে শুভমান গিল—নেতৃত্ব বদল নিয়ে উত্তাল ২০২৫ সালের ক্রিকেট দুনিয়া। কিন্তু এর মধ্যেই সামনে এল এক ধামাকা! সাত বছর আগে মহেন্দ্র সিং ধোনি (Mahendra Singh Dhoni) যখন অধিনায়কত্ব ছেড়েছিলেন, সেটা কি সত্যিই তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত ছিল? নাকি নেপথ্যে ছিল বোর্ডের প্রবল চাপ? এত বছর পর সেই ‘মিথ’ ভেঙে চুরমার। সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য।
২০১৭ সালে ধোনি যখন তিন ফরম্যাটেরই নেতৃত্ব বিরাট কোহলির হাতে তুলে দেন, তখন মনে করা হয়েছিল—এটাই হয়তো ‘ক্যাপ্টেন কুল’-এর মাস্টারস্ট্রোক। কিন্তু আসল সত্যটা মোটেই তেমন মসৃণ ছিল না। প্রাক্তন নির্বাচক যতীন পরাঞ্জপে সম্প্রতি এক শো-তে যে বোমা ফাটিয়েছেন, তাতে রীতিমতো তোলপাড় ক্রিকেট মহল। জানা যাচ্ছে, ধোনি নিজে থেকে সরেননি, বরং তাঁকে সরে যাওয়ার ‘ইঙ্গিত’ দিয়েছিল বিসিসিআই!
ঘটনাটি বেশ নাটকীয়। যতীন পরাঞ্জপে জানান, তিনি এবং তৎকালীন প্রধান নির্বাচক এমএসকে প্রসাদ যখন ধোনির কাছে যান, মাহি তখন নেটে ব্যাটিং করছিলেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে নির্বাচকরা দাঁড়িয়ে ছিলেন, ভাবছিলেন কীভাবে ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে সফল অধিনায়ককে বলা যায়— ‘আপনার সময় শেষ’।
অবশেষে সাহস সঞ্চয় করে তাঁরা ধোনিকে বলেন, “মাহি, আমাদের মনে হয় এটাই সঠিক সময় এগিয়ে যাওয়ার।” কিন্তু এরপর ধোনি যা করলেন, তা একমাত্র তাঁর পক্ষেই সম্ভব। কোনও ক্ষোভ নয়, কোনও বিদ্রোহ নয়। উল্টে নির্বাচক প্রধানকে বললেন, “অণ্ণা (ভাই), একদম সঠিক সিদ্ধান্ত। আমাকে কী করতে হবে বলুন?”
নির্বাচকরা তখন তাঁকে ই-মেল করে পদত্যাগের কথা জানাতে বলেন। সেই রাতেই ধোনির মেল আসে— “আমি সরে দাঁড়াতে চাই।”
তবে শুধু সরে দাঁড়ানোই নয়, ধোনি কথা দিয়েছিলেন বিরাট কোহলিকে সবরকম সাহায্য করার। বলেছিলেন, “বিরাট আমার ভাইয়ের মতো। ওকে তৈরি করতে যা যা দরকার, আমি সব করব।”
বিশ্বকাপ, টি-২০ বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি—সব জেতা অধিনায়কেও যে এভাবেই ‘পুশ’ করতে হয়েছিল সরে যাওয়ার জন্য, এই তথ্য আজ ক্রিকেট প্রেমীদের কাছে সত্যিই এক বড় ধাক্কা!

