প্রণব সূত্রধর ও সপ্তর্ষি সরকার, আলিপুরদুয়ার ও ধূপগুড়ি: সদ্য চাকা গড়ানো কামাখ্যা-হাওড়া বন্দে ভারত স্লিপারের স্টপ দিতে হবে ধূপগুড়ি স্টেশনে (Dhupguri Vande Bharat Stoppage Demand), এই দাবিতে বৃহস্পতিবার দিনভর আলিপুরদুয়ার ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারের (ডিআরএম) (Alipurduar DRM) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করলেন ধূপগুড়ি মহকুমা নাগরিক মঞ্চ এবং ব্যবসায়িক সংগঠনগুলির প্রতিনিধিরা। নাগরিক মঞ্চকে চিঠি দিয়ে আরপিএফ আগেই জানিয়েছিল, ডিআরএম কার্যালয়ের পরিসরে কোনওভাবেই ধর্না বা অবস্থান করতে দেওয়া হবে না। কিন্তু তা অগ্রাহ্য করেই পূর্ব ঘোষণা মতো এদিন কর্মসূচি পালন করা হয়। বন্দে ভারত স্লিপার সহ একাধিক দূরপাল্লার ট্রেনের স্টপ দাবি করে নাগরিক মঞ্চ যে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেছিল, তা এদিন তুলে দেওয়া হয় এডিআরএমের হাতে। রেল কর্তৃপক্ষ তা খতিয়ে দেখার আশ্বাসে অবস্থান বিক্ষোভ তুলে নেওয়া হয়।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের সিনিয়ার ডিসিএম আশিফ আলি বলেন, ‘এই দাবি রেল বোর্ডের কাছে পাঠানো হবে। কোনও স্টেশনে স্টপের বিষয়টি রেল বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।’
ধূপগুড়ি স্টেশনে বন্দে ভারত স্লিপার সহ একাধিক ট্রেনের স্টপের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছে। ট্রেনটি উদ্বোধনের দু’দিন আগে ১৫ জানুয়ারি অবস্থান ও ধর্না কর্মসূচি পালিত হয় ধূপগুড়ি স্টেশন চত্বরে। পরবর্তী দুই সপ্তাহ ধরে মহকুমা এলাকায় সংগ্রহ করা হয় গণস্বাক্ষর। ধূপগুড়ির বিধায়ক সহ স্থানীয় বিশিষ্ট মানুষ স্বাক্ষর করেন এই দাবিপত্রে। জানা গিয়েছে, আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি নিউ কোচবিহার স্টেশন পরিদর্শনে আসার কথা উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজারের। সেখানেও দাবি নিয়ে হাজির থাকার চেষ্টা চালাচ্ছেন নাগরিক মঞ্চ এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।
আন্দোলন নিয়ে নাগরিক মঞ্চের সম্পাদক অনিরুদ্ধ দাশগুপ্ত বলেন, ‘অবস্থানগত এবং বাণিজ্যিক একাধিক বাস্তব কারণেই আমরা ধূপগুড়িতে বন্দে ভারত স্লিপার সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের স্টপ চাইছি। আমাদের দুটি স্টপের মধ্যে দূরত্বের যুক্তি দেখানো হচ্ছে। কিন্তু এনজেপি ও জলপাইগুড়ি রোড অথবা নিউ কোচবিহার ও নিউ আলিপুরদুয়ারের মধ্যের দূরত্ব যদি যুক্তিসংগত হয়, তবে ধূপগুড়িতে স্টপও যুক্তিযুক্ত।’
ধূপগুড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক রামচন্দ্র বসাক বলেন, ‘ধূপগুড়ির মতো বর্ধিষ্ণু অর্থনৈতিক এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের স্টপ হলে বাণিজ্যিকভাবেও রেল লাভবান হবে। সঙ্গে লাভবান হবেন চা বাগান, বনবস্তি সহ কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার জেলারও বহু মানুষ। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আমাদের আন্দোলন জারি থাকছে এবং প্রয়োজনে ধূপগুড়িবাসী বনধ পালনের পথেও হাঁটবেন।’
এদিনই ডিভিশনাল রেলওয়ে ইউজার্স কনসালটেটিভ কমিটির ৯৪তম সভা ছিল আলিপুরদুয়ারে (Alipurduar)। ওই সভায় নাগরিক মঞ্চ এবং ব্যবসায়ীদের দাবি তুলে ধরেন কমিটির সদস্য ব্যবসায়ী দেবাশিস দত্ত। পরে তিনি বলেন, ‘বন্দে ভারত স্লিপারের স্টপের দাবির সঙ্গে এনজেপি-গুয়াহাটি বন্দে ভারত, গুয়াহাটি-যোধপুর এক্সপ্রেস, সেকেন্দ্রাবাদ এক্সপ্রেস, নর্থ ইস্ট এক্সপ্রেস, অরুণাচল এক্সপ্রেসের মতো কয়েকটি স্ট্রেনের ধূপগুড়িতে স্টপ এবং উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেসের আসন বৃদ্ধির দাবিও জানিয়েছি।’

