উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বর্তমানের অনিয়মিত জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনে ঘরে ঘরে থাবা বসাচ্ছে ডায়াবিটিস (Diabetes)। চিকিৎসকদের মতে, টাইপ ২ ডায়াবিটিস অনেক ক্ষেত্রেই শরীরে নিঃশব্দে বাসা বাঁধে। বিশেষ করে ‘প্রি-ডায়াবিটিস’ পর্যায়ে উপসর্গগুলি প্রকট না হওয়ায় অনেকেই বুঝতে পারেন না কখন রক্তে শর্করার মাত্রা বিপদসীমা পেরিয়ে যাচ্ছে। তবে আতঙ্কিত না হয়ে দৈনন্দিন অভ্যাসে সামান্য কিছু পরিবর্তন আনলেই এই রোগকে বশে রাখা সম্ভব।
রক্তে শর্করার আচমকা বৃদ্ধি রুখতে খাওয়ার ঠিক পরে তিনটি বিশেষ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা:
খাওয়ার পর ১০ মিনিটের পায়চারি: ভারী খাবারের পর এক জায়গায় বসে না থেকে অন্তত দশ মিনিট ধীরলয়ে হাঁটাহাঁটি করুন। এর ফলে পেশি সক্রিয় হয় এবং খাবার থেকে প্রাপ্ত গ্লুকোজ বা শর্করা শক্তি হিসেবে খরচ হয়ে যায়। ফলে রক্তে অতিরিক্ত শর্করা জমার সুযোগ পায় না।
পর্যাপ্ত জলপান: শরীরবৃত্তীয় কাজ সচল রাখতে জলের বিকল্প নেই। খাওয়ার খানিক পরে জল খেলে পরিপাক প্রক্রিয়া উন্নত হয়। এছাড়া পর্যাপ্ত জল খেলে কিডনি সক্রিয় থাকে, যা শরীর থেকে অতিরিক্ত শর্করা মূত্রের মাধ্যমে বের করে দিতে সাহায্য করে।
পাতে থাকুক ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার: ভাত বা রুটির মতো কার্বোহাইড্রেট রক্তে দ্রুত শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাবারের সঙ্গে বা ঠিক পরে শসা, টম্যাটো বা গাজরের স্যালাড খাওয়ার অভ্যাস করুন। ফাইবারের উপস্থিতি রক্তে শর্করা শোষণের গতি কমিয়ে দেয়, যা ‘ছাঁকনি’র মতো কাজ করে শরীরকে সুরক্ষিত রাখে।
চিকিৎসকদের মতে, কেবল ওষুধ নয়, বরং পরিমিত আহার, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত ঘুমই হলো সুস্থ থাকার আসল চাবিকাঠি। জীবনযাত্রায় এই ছোট ছোট বদলগুলিই আপনাকে ডায়াবিটিসের দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি থেকে দূরে রাখতে পারে।

