হলদিবাড়ি: বাজনার তালে তালে কোমর দোলাচ্ছেন বাড়ির সদস্যরা। বাড়ি ভর্তি আত্মীয়স্বজন ও পাড়াপ্রতিবেশী। এই এলাহি আয়োজনের উপলক্ষ্য হল অন্নপ্রাশন। তবে কোনও ছোট শিশুর নয়, এক বৃদ্ধার অন্নপ্রাশন। রবিবার এমন দৃশ্য চোখে পড়েছে হলদিবাড়ি শহর থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে পয়ামারির ইটালুরধাম গ্রামে। সেখানে ছেলে, ছেলের বৌ, নাতি-নাতনিদের সঙ্গে থাকেন সরোদিনী রায়। আধার কার্ড অনুযায়ী এখনও সেঞ্চুরি না হলেও পরিবারের সদস্যদের মতে, সরোদিনীর প্রকৃত বয়স একশোর ওপরে। এই বয়সে তাঁর সামনের মাড়িতে একটি দাঁত গজিয়েছে। আবার পেছনের দিকে ফোকলা মাড়িতে আরও তিনটি নতুন দাঁত উঁকি মারছে। তাই পরিবারের সকলে মিলে বৃদ্ধার অন্নপ্রাশনের আয়োজন করেছেন।
প্রায় ৩০ বছর আগে সরোদিনীর স্বামী মারা গিয়েছেন। তাঁর দুই ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছেন। বারোজন নাতি ও আটজন নাতনি রয়েছে। চোখেমুখে বয়সের ছাপ পড়লেও এখনও দিব্যি হেঁটেচলে বেড়ান সরোদিনী। তাঁর চেহারাও যথেষ্ট শক্তসমর্থ। দৃষ্টিশক্তিও বেশ ভালো রয়েছে। তবে বয়স হয়েছে বলে তিনি বসে থাকতে পছন্দ করেন না। টুকটুক করে বাড়ির বিভিন্ন কাজ করতে ভালোবাসেন বৃদ্ধা। তবে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বিশেষ একটা কাজ করতে দেন না।
আধার কার্ড অনুযায়ী সরোদিনীর বয়স একশোর থেকে কিছুটা কম হলেও তাঁর ছেলে কালীপদ রায় জানান, আধার কার্ড তৈরি করার সময় মা নিজের বয়স ভুল বলেছিলেন। মায়ের আসল বয়স ১০৫ বছর বলে জানান তাঁর মেয়ে সারথি রায় ও রাসমণি রায়। তাঁরা জানান, শিশুর প্রথম দাঁত ওঠার পর যেমন অন্নপ্রাশনের অনুষ্ঠান হয়, তেমনি বৃদ্ধা মায়ের নতুন দাঁত গজানোর আনন্দে তাঁরা অন্নপ্রাশনের আয়োজন করেছেন।
বৃদ্ধার নাতি জয়ন্ত রায়ের কথায়, ‘কয়েকদিন আগে দিদার মুখে দাঁত দেখা গিয়েছিল। তাই সকলে মিলে অন্নপ্রাশন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সমস্ত রীতি মেনে এদিন দিদার মুখে ভাত তুলে দেওয়া হয়।’ এদিনের অন্নপ্রাশনের মেনুতে ছিল ভাত সহ মাছ, মাংস, ডাল, শেষপাতে দই, মিষ্টি। নাতি-নাতনিদের আবদার মেনে ছোট্ট শিশুর মতোই সবরকম আচার অনুষ্ঠান করছিলেন ওই বৃদ্ধা। এরপর এক এক করে সব নাতি-নাতনির বিয়ের ভোজ খাওয়ার ইচ্ছে রয়েছে বলে জানান সরোদিনী। এমন অভিনব আয়োজনে এলাকাবাসীও উত্সাহের সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন। সরোদিনী নিজেও এদিন অতিথিদের আপ্যায়ন করছিলেন।

