উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: সকালবেলা ঘুম ভাঙা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমানোর আগে পর্যন্ত— আমাদের জীবনের বড় একটা অংশ দখল করে নিয়েছে স্মার্টফোনের স্ক্রিন। সোশ্যাল মিডিয়ার নোটিফিকেশন আর ইমেলের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে মানসিক শান্তি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হচ্ছে ‘ডিজিটাল ফ্যাটিগ’ বা ডিজিটাল ক্লান্তি। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে বর্তমান প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ (Digital Detox)।
কেন প্রয়োজন এই ডিটক্স?সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, টানা কয়েক ঘণ্টা স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের ব্যবহার মস্তিষ্কে ডোপামিনের ভারসাম্য নষ্ট করে, যার ফলে বাড়ছে অনিদ্রা, উদ্বেগ এবং একাগ্রতার অভাব। মনোবিদদের মতে, মাঝে মাঝে প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকা কেবল চোখের জন্যই নয়, মনের স্বাস্থ্যের জন্যও অপরিহার্য।
সহজ উপায়ে ডিজিটাল ডিটক্সের নির্দেশিকা:
১. ‘নো ফোন’ জোন তৈরি: বাড়ির নির্দিষ্ট কিছু জায়গা, যেমন খাওয়ার টেবিল বা শোবার ঘরে ফোনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করুন। বিশেষ করে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে ফোন দূরে রাখার অভ্যাস করুন।
২. নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণ: অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন। বারবার ফোন চেক করার প্রবণতা কমলে কাজের মনোযোগ বাড়ে।
৩. পুরোনো অভ্যাসে ফেরা: ফোনের স্ক্রিনে বই না পড়ে কাগজের বই পড়ার অভ্যাস করুন। এছাড়া গাছ লাগানো, গান শোনা বা পরিবারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার জন্য সময় বরাদ্দ করুন।
৪. ছুটির দিনে টেক-ব্রেক: সপ্তাহে অন্তত একদিন বা দিনের কয়েক ঘণ্টা ফোন সুইচ অফ করে রাখুন। প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটান।
বিশেষজ্ঞের মত: জীবনশৈলী বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল ডিটক্স মানে প্রযুক্তিকে ত্যাগ করা নয়, বরং প্রযুক্তির ওপর আমাদের অতিনির্ভরশীলতাকে নিয়ন্ত্রণ করা। দিনে মাত্র ৩০ মিনিট ফোন থেকে দূরে থাকলে মানসিক চাপ প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। এটি সৃজনশীলতা বাড়াতে এবং গভীর ঘুমে সাহায্য করে।

