অনসূয়া চৌধুরী, জলপাইগুড়ি: লাইব্রেরি শব্দটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে শান্ত পরিবেশ৷ নতুন-পুরোনো বইয়ের সম্ভারের সঙ্গে একটা অদ্ভুত গন্ধ। কখনও লাইব্রেরির এক কোনায় বসে একের পর এক বইয়ের পৃষ্ঠা উলটে দেখা, কখনও তথ্য সংগ্রহ করতে কোনও এক বুক শেলফে ঢুঁ মারা। এই ছিল গ্রন্থাগারের রীতি। তবে, এখন সময় পালটাচ্ছে। ডিজিটাল (Digital Library) যুগে হাতের মুঠোফোন কিংবা যে কোনও ডিভাইসের মাধ্যমে বিনামূল্যে বই পড়া সম্ভব। সেই সুযোগ করে দিয়েছে ন্যাশনাল ডিজিটাল লাইব্রেরি অফ ইন্ডিয়া (NDLI)। বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি আনন্দ চন্দ্র কলেজে আয়োজিত দু’দিনের ন্যাশনাল কনফারেন্সে এসে এমনটাই জানালেন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনলজি, খড়্গপুরের চিফ লাইব্রেরিয়ান তথা ডিএলআই প্রকল্পের যুগ্ম পিআই ডঃ বি সূত্রধর। তিনি এও জানান, এই লাইব্রেরিতে রয়েছে ১৪ কোটির ওপর বই।
বৃহস্পতিবার আনন্দ চন্দ্র কলেজের (Anand Chandra College) সেন্ট্রাল লাইব্রেরির তরফে ও ন্যাশনাল ডিজিটাল লাইব্রেরি অফ ইন্ডিয়ার সহযোগিতায় সূচনা হল দু’দিনের ন্যাশনাল কনফারেন্স। এদিন ‘ট্রান্সফর্মিং অ্যাকাডেমিক লাইব্রেরি সার্ভিসেস ইন দ্য ডিজিটাল এরা ঃ চ্যালেঞ্জেস, অপারচুনিটিস অ্যান্ড প্রস্পেকটাস ফর দ্য ফিউচার’ বিষয়ের উপর আলোচনা হয়। ডঃ বি সূত্রধর বলেন, ‘এখন ইন্টারনেটের যুগে অসম্ভব কথাটা অনেকটাই বেমানান। সার্চ করলেই প্রয়োজনীয় তথ্য কয়েক সেকেন্ডে হাতের মুঠোয়। তবে, অনেক ক্ষেত্রেই ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেল কিংবা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য স্টাডি মেটেরিয়াল অনলাইনে টাকা দিয়ে ডাউনলোড করে পড়তে হয়। কিন্তু ন্যাশনাল ডিজিটাল লাইব্রেরি অফ ইন্ডিয়া সেই সুযোগ পুরো বিনামূল্যে দিচ্ছে।’ কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষামন্ত্রকের তরফে আইআইটি, খড়্গপুরকে এই প্রোজেক্ট দেওয়ার পর শুরু হয় কাজ৷ বর্তমানে এই ডিজিটাল লাইব্রেরিতে রয়েছে ১৪ কোটির বেশি শিক্ষামূলক বই, অডিও বুক, ভিডিও লেকচার সহ আরও অনেক কিছু। যা একই ছাতার নীচে যে কেউ বিনামূল্যে পেতে পারেন এক ক্লিকেই।


জানা যাচ্ছে, এনডিএলআই অ্যাপ ডাউনলোড করলে ৮টি ডোমেইন দেখা যাবে। স্কুল এডুকেশন, হায়ার এডুকেশন, কেরিয়ার ডেভেলপমেন্ট, রিসার্চ, কালচারাল আর্কাইভস, জুডিসিয়াল রিসোর্সেস, পেটেন্টস অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস ও নিউজপেপার আর্কাইভস। সেখানে বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, মণিপুরি, তামিল, তেলুগু, গুজরাটি সহ মোট ১৪টি ভাষায় কনটেন্ট সার্চ করা যাবে। এদিনের কনফারেন্স থেকে ডঃ বি সূত্রধর বলেন, ‘যত দিন যাচ্ছে, সিস্টেম তত আপডেট করা হচ্ছে। আমাদের এই লাইব্রেরিতে শুধু বই পড়া নয়, বিভিন্ন পরীক্ষার মক টেস্ট দেওয়ারও সুযোগ রয়েছে।’ এদিন এই কনফারেন্সের সূচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি কৃষ্ণা রায়, আনন্দ চন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ দেবাশিস দাস, পিডি উইমেন্স কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ সমাপ্তি সাহা, আনন্দ চন্দ্র কলেজের পরিচালন কমিটির সভাপতি ডঃ আনন্দগোপাল ঘোষ, কলেজের সেন্ট্রাল লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ান ডঃ শামিম আখতার মুন্সি প্রমুখ।

