প্রসেনজিৎ সাহা, দিনহাটা: সকাল থেকে রাত, বিরামহীন ছোটা ভোট সংগ্রহের তাগিদে। সভা থেকে মিছিল, আবার বাড়ি বাড়ি ছোটা সাধারণের মন জয়ের চেষ্টায়। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই ব্যস্ততা বাড়ছে প্রার্থীদের। একটু এদিক-ওদিক হলেই পিছিয়ে পড়তে হবে প্রতিপক্ষের থেকে- আশঙ্কা তাড়া করছে প্রত্যেককে। তাই ঘাম ঝরানোর ক্ষেত্রে কেউই কার্পণ্য করছেন না। লম্বা রেসের ঘোড়া হওয়ার ক্ষেত্রে শরীরটাও সুস্থ রাখা চাই, তাই ডায়েট কন্ট্রোলেও এখন বিশেষ নজর প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের। ভোটার তালিকার মতো তাঁদের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে খাদ্যতালিকা।
‘কুকথা’ বলায় ‘বদনাম’ রয়েছে দিনহাটার (Dinhata) তৃণমূল প্রার্থী উদয়ন গুহর। এক বছর ধরে ভাত না খেলেও তিনি প্রতিনিয়ত সকালে এক চামচ মধু খান। কিন্তু কেন? মজার ছলে উদয়ন বলছেন, ‘মধুর মধুর কথা যাতে বের হয়, তার জন্য মধু খাওয়া।’ শরীরকে সুস্থ রাখতে তাঁর প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকছে এক বাটি দই, ডাল, সবজি, মাছের পাশাপাশি মরশুমি রকমারি ফল। এসময় জলপানে কোনও কার্পণ্য করছেন না তিনি। রাতের মেনুতে থাকছে হালকা খাবারই। গলার স্বর ঠিক রাখার ক্ষেত্রে অবশ্য তিনি কোনও ওষুধ খান না, ভরসা রাখেন জলে।


বিজেপি প্রার্থী অজয় রায় নতুন দৌড় শুরু করলেও, এখনও চলছেন পুরোনো রুটিনেই। খাদ্যতালিকায় কোনও পরিবর্তন ঘটাননি তিনি। অজয় বলছেন, ‘আগেও যে খাবার খেতাম এখনও সেটাই খেয়ে থাকি। তবে নিয়মিত নিরামিষ খাবার।’ তার সঙ্গে অবশ্য স্বাস্থ্যের কোনও সম্পর্ক নেই দাবি করছেন বিজেপি প্রার্থী। তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, সকালে অল্প ভাতের সঙ্গে থাকে ডাল ও সবজি। দুপুরেও ভাত, সবজিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তিনি। ভাতের পরিবর্তে রাতে তাঁর খাবারের থালিতে থাকে দুটো গরম রুটির সঙ্গে সবজি। গলার জন্য উদয়নের মতো তাঁরও বিশেষ খেয়াল নেই।
বাকিদের মতো সকাল থেকে সন্ধ্যা, প্রচারে ব্যস্ত ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী বিকাশ মণ্ডল। স্বাস্থ্য সচেতন ষাটোর্ধ্ব বিকাশ সকালে ছাতু খেয়ে ভোট প্রচারে বেরিয়ে পড়েন। দুপুরে ডাল, ভাতের সঙ্গে কোনওদিন থাকে মাছ। রাতে অবশ্য একেবারেই হালকা খাবারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তিনি। সেক্ষেত্রে তাঁর প্রথম পছন্দ একটু মুড়ি এবং দুধ। অন্য সময়ের থেকে এখন তাঁর জলপান একটু বেশিই।
সবমিলিয়ে চরম ব্যস্ততার মাঝে শরীরকে ঠিক রাখতে প্রার্থীরা এখন খাবারের রুটিনে পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। অধিকাংশই গৃহলক্ষ্মীর পরামর্শে চলছেন। তবে এমন অনেকেই আছেন, যাঁরা চলার পথে পরামর্শ নিচ্ছেন চিকিৎসকের।

