শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫

Dinhata | অঙ্গনওয়াড়িতে নেশার ঠেকে অতিষ্ঠ নাগরেরবাড়ি

শেষ আপডেট:

অমৃতা দে, দিনহাটা: ভেতরে ঢুকলে বোঝা দায়, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র নাকি মদের ঠেক। ঘরগুলোর মাঝে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে নেশাজাতীয় দ্রব্যের খালি প্যাকেট, মদের ভাঙা বোতল। এমনই অবস্থা দিনহাটা (Dinhata)-২ ব্লকের চৌধুরীহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের নাগরেরবাড়ি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের। স্থানীয়দের অভিযোগ, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি বর্তমানে পরিণত হয়েছে দুষ্কৃতীদের আড্ডাস্থলে। সকাল হোক বা সন্ধ্যা, যে কোনও সময় কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে পড়ে দুষ্কৃতীরা। প্রতিবাদ করতে গেলেই গ্রামবাসীর সঙ্গে শুরু হয় ঝগড়া-বিবাদ। দিনহাটা-২ ব্লকের সিডিপিও শিবপ্রসাদ দত্তকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি নাকি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানালেন। তাঁর কথায়, ‘খোঁজ নিয়ে দেখব।’

কেন্দ্রের ঘরের মধ্যে মদের খালি বোতল, সিগারেটের খালি প্যাকেট পড়ে থাকে। এমন নোংরা পরিবেশে নেই জলের ব্যবস্থাও। একটি কল রয়েছে, কিন্তু সেটিও বহুদিন ধরে অচল। শৌচালয় থাকলেও ব্যবহারের অযোগ্য। শিশুদের পুষ্টিকর খাবার বা নিরাপদ পরিবেশ তো দূরের কথা, মৌলিক পরিচ্ছন্নতার ছিটেফোঁটাও নেই বলে অভিযোগ। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের এমন অব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। কেন্দ্রের গ্রিল থাকা সত্ত্বেও সেখানে তালার ব্যবস্থা নেই কেন? কেন সেটি প্রতিদিন খোলা পড়ে থাকে? তাহলে কি দুষ্কৃতীদের নেশার ঠেক বসাতে ‘উৎসাহ’ দেওয়া হচ্ছে? গ্রামবাসী ইউসুফ খানের কথায়, ‘দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হলেও প্রশাসনকে জানিয়ে কোনও ফল মেলেনি।’

স্থানীয়দের অবশ্য ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী শর্মিলা রায়। অভিযোগ, তিনি সপ্তাহে দু’তিনদিনের বেশি উপস্থিত থাকেন না। মাঝে মাঝে এসে একসঙ্গে দু’দিনের কাঁচা ডিম বিলি করেন। কখনো-কখনো চাল-ডাল চুরির অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। আরেক গ্রামবাসী শেফালি দেবনাথ বলেন, ‘এই এলাকাটা বড়, সে কারণে অনেক বাচ্চাই অঙ্গনওয়াড়িতে আসে। কিন্তু কেন্দ্রের এমন অবস্থা যে ওদের পাঠাতে ইচ্ছা হয় না।’ রান্নার জায়গাটাও খুবই নোংরা এবং অস্বাস্থ্যকর বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অভিযুক্ত অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর সাফাই, ‘আমি সপ্তাহে তিন থেকে চারদিন অঙ্গনওয়াড়িতে যাই। আমার বাড়ি কেন্দ্র থেকে দূরে, তাই প্রতিদিন যাওয়া সম্ভব হয় না।’

৭/১৯৭ বুথের পঞ্চায়েত সদস্য সাহেবা বিবি জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে ওই কর্মীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি নিয়মিত আসার আশ্বাস দিলেও তা মানা হচ্ছে না। আর দুষ্কৃতীদের আড্ডা নিয়ে খোঁজ নেওয়া হবে। দিনহাটা-২’র বিডিও নীতীশ তামাংকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন না ধরায় বক্তব্য মেলেনি।

Sushmita Ghosh
Sushmita Ghoshhttps://uttarbangasambad.com/
Sushmita Ghosh is working as Sub Editor Since 2018. Presently she is attached with Uttarbanga Sambad Digital. She is involved in Copy Editing, Uploading in website and various social media platforms.

Share post:

Popular

More like this
Related

Raiganj | স্ত্রীর পরকীয়া! প্রেমিককে পুলিশে দিলেন স্বামী

রায়গঞ্জ: স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে জানতে পেরে শুক্রবার রাতে...

Darjeeling orange | দার্জিলিংয়ের কমলা কলকাতায়

শিলিগুড়ি: এবার কলকাতার (Kolkata) মানুষও স্বাদ নিতে পারবেন দার্জিলিংয়ের...

Itahar | নিষ্প্রভ চোখে জীবনের লড়াই 

প্রায় ৯০ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি নেই। তবু জীবনীশক্তির অভাব নেই।...

Weather Update | সপ্তাহান্তে শীতের ঝোড়ো ব্যাটিং, কমছে তাপমাত্রা, কী বলছে ওয়েদার রিপোর্ট?

উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: সপ্তাহান্তে শীতের ঝোড়ো ব্যাটিং। বঙ্গে...