রাজু সাহা, শামুকতলা: বোস্টন ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার জন্য যোগ্যতা অর্জন করলেন শামুকতলার (Samuktala) অ্যাথলিট, পেশায় শিক্ষক দীপঙ্কর নাথ রায়। পৃথিবীর সাতটি মেজর ম্যারাথনের মধ্যে বোস্টন ম্যারাথন অন্যতম। দীপঙ্করের এই সাফল্যে রীতিমতো খুশির হাওয়া শামুকতলা সহ গোটা এলাকায়। বোস্টন ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার প্রথম শর্ত হিসেবে ভারতবর্ষের নির্দিষ্ট ৮-১০টি ম্যারাথনের যে কোনও একটি ম্যারাথনে অংশ নিয়ে যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। ম্যারাথনে ৪২.১৯৫ কিলোমিটার দূরত্ব সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা ১৫ মিনিটে সম্পন্ন করতে হয়। তবেই বোস্টনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ মেলে। এক্ষেত্রে দীপঙ্কর তিন ঘণ্টা বারো মিনিটে সেই সাফল্য অর্জন করেছেন। অলিম্পিক ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার উদ্যোগে কাশ্মীরে আয়োজিত ম্যারাথনে অংশ নিয়ে এই সাফল্য পেয়েছেন তিনি। এছাড়া গুয়াহাটি, দিল্লি, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু, সিমলা ম্যারাথনে অংশ নিয়েও সাফল্য পেয়েছেন তিনি। গুয়াহাটি ম্যারাথনে তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেন। স্কুলে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাঁর একমাত্র ভালোবাসার জায়গা দৌড়। ঝড়-বৃষ্টি যাই থাকুক, প্রত্যেকদিন কুড়ি কিলোমিটার করে দৌড়োন তিনি।
বোস্টন ম্যারাথন হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব ম্যাসাচুসেটসের বৃহত্তর বোস্টনের আটটি শহরে আয়োজিত একটি বার্ষিক ম্যারাথন দৌড়। এটি ঐতিহ্যগতভাবে এপ্রিলের তৃতীয় সোমবার, প্যাট্রিওট ডে’তে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এই খেলায় অংশ নেওয়ার জন্য বিপুল পরিমাণ খরচ নিয়ে রীতিমতো চিন্তিত দীপঙ্কর। দীপঙ্কর মহাকালগুড়ি মিশন হাইস্কুলের অঙ্কের শিক্ষক। নিয়মিত দৌড়চর্চা করার জন্য তাঁকে প্রতিবছর প্রচুর টাকা ব্যয় করতে হয়। এক্ষেত্রে কোনও স্পনসর পেলে এই ম্যারাথনে অংশ নিতে সুবিধা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।


তিনি বলেন, ‘বিদেশে খেলতে যেতে হলে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। প্রতিবছর খেলার চর্চার পেছনে আমার তিন থেকে চার লক্ষ টাকা খরচ হয়। এই মুহূর্তে স্পনসরের বিশেষ প্রয়োজন। পাশাপাশি, লন্ডন ম্যারাথনেও অংশ নেওয়ার ইচ্ছে রয়েছে।’

