কোচবিহার: বছর ঘুরে মেলা এল। তবু এবারও রাসমেলায় শৌচালয়ের কোনও উন্নতি দেখা গেল না। আর এ নিয়ে এবারও ক্ষুব্ধ মেলায় আসা ব্যবসায়ীরা। রাসমেলা চলাকালীন প্রতি বছরই শৌচাগার নিয়ে অসন্তোষ থাকে। গত দুই বছর ধরে শৌচকর্ম করার জন্য দশ টাকা করে নেওয়া হলেও শৌচাগারগুলি ব্যবহারের উপযোগী থাকে না। বারবারই এমন অভিযোগ সামনে এসেছে। এবছরও একই কারণে আশাহত সকলে। এমন অবস্থায় এবারও বায়োটয়লেট না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সকলে।
ইউনেসকোর অনুমোদনের জন্য রাসমেলার নাম পাঠানো হয়েছে তাও কয়েক বছর হল। একসময় কোচবিহারের মহারাজার তত্ত্বাবধানে হত এই রাসমেলা। পরবর্তীতে কোচবিহারের জেলা শাসক পুরসভাকে মেলা পরিচালনার দায়িত্ব দেন। ঐতিহ্যবাহী এই রাসমেলার কলেবর যেমন দিন-দিন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি তিনদিনের জায়গায় বেড়ে হয়েছে ১৫ দিন।
গত বছর ২০টি থাকলেও এবছর পুরসভার পক্ষ থেকে মেলার মাঠে পূর্বদিকে পুরুষদের জন্য ১৩টি ও মহিলাদের জন্য ৫টি শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী রাসমেলায় এবার বড় দোকানদারের সংখ্যা ২৫০০। এছাড়া ফুটপাথে প্রায় ১০০০ জন দোকান দিয়েছেন। তার সঙ্গে মেলায় আসা অগণিত দর্শক তো রয়েছেনই। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এত মানুষের জন্য মাত্র ১৮টি শৌচালয় কি যথেষ্ট? তাছাড়া গত বছর বলা হয়েছিল ব্যবসায়ীদের স্নানের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু মেলার ছয়দিন পরও সেরকম কিছু দেখা না যাওয়ায় সকলেই ক্ষুব্ধ। যদিও শৌচাগার নিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশবন্ধু মার্কেটের ভিতর শৌচাগার খোলা রয়েছে। এছাড়াও রাসমেলার মাঠের সামনে একটি সুলভ শৌচাগারও রয়েছে।’
যদিও চেয়ারম্যানের বক্তব্যে এক ব্যবসায়ী বললেন, ‘পর্যাপ্ত পরিমাণে শৌচাগার না থাকায় প্রতিবছর মেলায় একই অসুবিধা হয়। ডুয়ার্স উৎসবে যদি বায়োটয়লেটের ব্যবস্থা করা যেতে পারে তবে রাসমেলায় কেন নয়। এই মেলা থেকে পুরসভার আয় তো নেহাত কম হয় না।’ আরেক আচার বিক্রেতার কথায়, ‘মেলার শৌচাগারে যাওয়া যায় না। দোকান ফেলে, মেলা ছেড়ে হোটেলে অথবা ভাড়াঘরে শৌচকর্ম করতে যাওয়াও আমাদের জন্য ভীষণ অসুবিধার।’
এদিকে, এনিয়ে শহরের বিশিষ্টরাও সরব হয়েছেন। সুষ্ঠুভাবে মেলা পরিচালনা করলেও মেলায় আসা হাজার হাজার মানুষের জন্য ন্যূনতম সুবিধা পুরসভা দিতে পারেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন নাট্য ও সমাজকর্মী, সোমনাথ ভট্টাচার্য। তাঁর কথায়, ‘যে শৌচালয়গুলি পুরসভার পক্ষ থেকে বানিয়ে দেওয়া হয় সেখানে দুই-তিনদিন পর আর পা রাখা যায় না। ব্যবসায়ীরা বেশিরভাগই সেখানে যান না। যাঁদের হোটেল বা ঘরভাড়া করার সামর্থ্য নেই তাঁদের আরও অসুবিধা। এছাড়াও মেলায় কোনও দিকনির্দেশ না থাকায় শৌচালয় খুঁজে পেতে হয়রান হতে হয় মেলায় আসা দর্শকদের।’

