উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামার মাঝে এক নাটকীয় মোড়। ‘একটি গোটা সভ্যতা আজ রাতে ধ্বংস হয়ে যাবে’—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) এমন চরম হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টা পরেই সুর নরম করল ওয়াশিংটন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের মধ্যস্থতায় (Pakistan Mediation) আপাতত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে আমেরিকা ও ইরান (US-Iran Ceasefire)। এই চুক্তির আওতায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) অবিলম্বে খুলে দিতে রাজি হয়েছে তেহরান।
মঙ্গলবার ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ জানান, পাকিস্তানের প্রস্তাব মেনে তিনি দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা চালানোর পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, আমেরিকা ইতিমধ্যেই তাদের সামরিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে এবং ইরানের পক্ষ থেকে আসা একটি ‘১০ দফা প্রস্তাব’ আলোচনার জন্য একটি কার্যকর ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই দুই সপ্তাহের বিরতিকে কাজে লাগিয়ে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায় ওয়াশিংটন।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি (Seyed Abbas Araghchi) এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন টুইটার) জানিয়েছেন, আমেরিকা আক্রমণ বন্ধ রাখলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও তাদের রক্ষণাত্মক অভিযান স্থগিত রাখবে। পাশাপাশি, কারিগরি সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে। সূত্রের খবর, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ মোজতবা খামেনেই (Ayatollah Mojtaba Khamenei) এই সিদ্ধান্তে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। নেপথ্যে ইরানের অন্যতম বন্ধু রাষ্ট্র চিনের বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। চিন সরাসরি তেহরানকে নমনীয় হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল।
Statement on behalf of the Supreme National Security Council of the Islamic Republic of Iran: pic.twitter.com/cEtBNCLnWT
— Seyed Abbas Araghchi (@araghchi) April 7, 2026
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ইরানে প্রায় ১,৯০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। লেবাননে হেজবোল্লার বিরুদ্ধে ইজরায়েলি অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন ১,৫০০ জনেরও বেশি মানুষ। পালটাপালটি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আমেরিকার ১৩ জন সেনা সদস্য এবং বেশ কিছু ইজরায়েলি সেনা।
ট্রাম্পের এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি কি শেষ পর্যন্ত স্থায়ী শান্তিতে রূপ নেবে, নাকি এটি কেবলই ঝড়ের আগের স্তব্ধতা—তা নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে আপাতত হরমুজ প্রণালী খুলে যাওয়ায় বিশ্ব বাজারে তেলের জোগান স্বাভাবিক হওয়ার আশায় বুক বাঁধছেন অর্থনীতিবিদেরা।

